জনপ্রিয় অভিনেতা শামস সুমন আর নেই

দেশের অভিনয় জগতের এক সময়ের অত্যন্ত জনপ্রিয় ও শক্তিমান অভিনেতা শামস সুমন আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। আজ মঙ্গলবার (১৭ মার্চ, ২০২৬) সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল প্রায় ৫৯ বছর।
হাসপাতালের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মূলত কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে আক্রান্ত হয়ে এই গুণী শিল্পীর মৃত্যু হয়েছে। অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি জনপ্রিয় রেডিও স্টেশন ‘রেডিও ভূমি’র স্টেশন চিফ এবং চ্যানেল আই-এর অনুষ্ঠান বিভাগের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তার আকস্মিক প্রয়াণের খবরে দেশের সাংস্কৃতিক ও গণমাধ্যম অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
রাজশাহীর কৃতী সন্তান শামস সুমন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। সেখানে থাকাকালীন তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রখ্যাত আবৃত্তি সংগঠন ‘স্বনন’-এর একজন সক্রিয় সদস্য ছিলেন। মূলত মঞ্চ নাটক থেকে তার অভিনয় জীবনের যাত্রা শুরু। পরবর্তীতে ছোট পর্দা ও বড় পর্দায় সমান দাপটের সঙ্গে অভিনয় করে তিনি দর্শকদের হৃদয়ে জায়গা করে নেন।
যদিও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাকে টেলিভিশন নাটকে খুব একটা দেখা যায়নি, তবে তার অভিনীত চলচ্চিত্রগুলো আজও দর্শকদের মনে দাগ কেটে আছে। তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য সিনেমাগুলোর মধ্যে রয়েছে— ‘জয়যাত্রা’ (২০০৪), ‘বিদ্রোহী পদ্মা’ (২০০৬), ‘নমুনা’ (২০০৮), ‘হ্যালো অমিত’ (২০১২), ‘আয়না কাহিনী’ (২০১৩), ‘প্রিয়া তুমি সুখী হও’ (২০১৪) এবং ২০১৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘মন জানে না মনের ঠিকানা’, ‘কক্সবাজারে কাকাতুয়া’ ও ‘চোখের দেখা’।
শামস সুমনের অভিনয় জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ অর্জন আসে ২০০৮ সালে। প্রখ্যাত নির্মাতা শহীদুল ইসলাম খোকন পরিচালিত ‘স্বপ্নপূরণ’ চলচ্চিত্রে অনবদ্য অভিনয়ের জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব-অভিনেতা বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত হন।
দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময়ের ক্যারিয়ারে তিনি তার ভরাট কণ্ঠস্বর এবং সাবলীল অভিনয় দিয়ে নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন। তার মৃত্যুতে সহকর্মী অভিনেতা, পরিচালক এবং ভক্তরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গভীর শোক ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করছেন। এই গুণী অভিনেতার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছে তার পরিবার।

















