জনগণের রায় প্রত্যাখ্যান করলে আরেকটি পাঁচ আগস্ট হতে পারে: ১১ দলীয় ঐক্য

জাতীয় সংসদের মাধ্যমে ‘জুলাই সনদ’ ও ‘গণভোটের’ রায় অবিলম্বে কার্যকর করার দাবি জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। জোটের নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা থেকে পিছু হটে বিএনপি জনগণের রায় প্রত্যাখ্যান করছে। এই হঠকারিতা অব্যাহত থাকলে দেশে আরেকটি ‘৫ আগস্ট’ সৃষ্টি হতে পারে।
গতকাল শনিবার রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটে আয়োজিত এক বিক্ষোভ মিছিল-পূর্ব সমাবেশে জোটের শীর্ষ নেতারা এসব কথা বলেন। গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর সংসদের প্রধান বিরোধী দল হিসেবে এটিই জামায়াতে ইসলামী ও ১১ দলীয় ঐক্যের রাজপথের প্রথম বড় কোনো কর্মসূচি।
সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম এমপি বলেন, “গণভোট অস্বীকার করা মানে দেশের ৭০ শতাংশ মানুষের রায়কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো। যা সংসদে সমাধানযোগ্য, সেটি সংসদেই সমাধান করুন। সংসদের কথা রাজপথে টেনে আনা হলে তার ফল কারও জন্যই সুখকর হবে না।”
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচনের আগে বিএনপি তলে তলে ‘না’ ভোটের পক্ষে প্রচার চালালেও তাদের চেয়ারম্যান প্রকাশ্যে ‘হ্যাঁ’ ভোট চেয়েছিলেন। এখন ক্ষমতায় গিয়ে তারা সেই গণভোটের রায়কেই অস্বীকার করছে।
খেলাফত মজলিসের মহাসচিব অধ্যাপক ড. আহমদ আবদুল কাদের ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা ভাবতে পারিনি বিএনপি এত দ্রুত গণভোট ও জুলাই সনদের সঙ্গে মোনাফেকি করবে।”
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাধারণ সম্পাদক আখতার হোসেন বলেন, “সংসদে বিএনপির সংখ্যাধিক্য থাকতে পারে, কিন্তু গণভোটের পক্ষের ৭০ শতাংশ মানুষ আজ রাজপথে। গণভোটের রায় কার্যকর ও সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবিতে সংসদের পাশাপাশি রাজপথেও ফয়সালা হবে।”
সম্প্রতি জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি অন্তর্বর্তী সরকার প্রণীত ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে গণভোট অধ্যাদেশসহ চারটি বাতিল এবং ১৬টি স্থগিত রাখার সুপারিশ করে। সংসদের এই পদক্ষেপের প্রতিবাদেই রাজপথে নামল ১১ দলীয় ঐক্য।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন— নেজামে ইসলাম পার্টির মখলেসুর রহমান কাসেমী, জাগপা নেতা রাশেদ প্রধান, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান এবং বিডিপি সভাপতি আনোয়ার হোসেন। সমাবেশ শেষে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বায়তুল মোকাররম থেকে শুরু হয়ে শান্তিনগরে গিয়ে শেষ হয়।

















