ছয়টি অস্কার জিতলো ‘ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার’

যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের ডলবি থিয়েটারে জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হলো একাডেমি অ্যাওয়ার্ডসের (অস্কার) ৯৮তম আসর। এবারের আসরে জয়জয়কার ছিল ‘ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার’ সিনেমার। সাবেক এক বিপ্লবীর নিখোঁজ কন্যার সন্ধান নিয়ে নির্মিত এই চলচ্চিত্রটি মোট ছয়টি ক্যাটাগরিতে পুরস্কার জিতে বছরের সেরা সিনেমার মর্যাদা পেয়েছে। সেরা সম্পাদনার অস্কারটিও গেছে এই সিনেমার ঝুলিতে।
পুরস্কার গ্রহণের সময় মঞ্চে দাঁড়িয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন সিনেমার পরিচালক অ্যান্ডারসন। তিনি জানান, বিশ্বজুড়ে চলমান অস্থিরতা ও যুদ্ধের কারণে বর্তমান প্রজন্ম যে পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছে, তার জন্য সন্তানদের কাছে ক্ষমা চাইতেই তিনি এই সিনেমাটি নির্মাণ করেছেন। তার মতে, একটি অগোছালো বিশ্ব তাদের হাতে তুলে দেওয়ার দায়ভার বড়দেরই নিতে হবে।
অন্যদিকে, ৪টি অস্কার জিতে তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ‘সিনারস’। এই সিনেমায় যমজ গ্যাংস্টারের চরিত্রে অসামান্য অভিনয়ের জন্য সেরা অভিনেতার পুরস্কার জিতেছেন মাইকেল বি জর্ডান। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলের বর্ণবাদের প্রেক্ষাপটে নির্মিত এই অতিপ্রাকৃত ভ্যাম্পায়ার ড্রামার জন্য সেরা মৌলিক চিত্রনাট্যের পুরস্কার পেয়েছেন রায়ান কুগলার। এই সিনেমার মাধ্যমেই ইতিহাস গড়েছেন অটাম দুরাল্ড আরকাপাও; প্রথম নারী হিসেবে তিনি সেরা চিত্রগ্রহণের অস্কার জয় করেন।
এবারের আসরে সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার জিতেছেন জেসি বাকলি, ‘হ্যামনেট’ সিনেমায় উইলিয়াম শেকসপিয়ারের শোকাহত স্ত্রীর চরিত্রে অভিনয়ের জন্য। এছাড়া সেরা আন্তর্জাতিক পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের পুরস্কার জিতেছে ইওয়াকিম ট্রিয়েরের নরওয়েজিয়ান সিনেমা ‘সেন্টিমেন্টাল ভ্যালু’।
পুরস্কারের মঞ্চে মানবিকতার এক অনন্য নজির স্থাপন করেন স্প্যানিশ অভিনেতা হাভিয়ের বারদেম। সেরা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রের পুরস্কার দিতে মঞ্চে ওঠার সময় তার জ্যাকেটে দুটি বিশেষ পিন দেখা যায়, যাতে লেখা ছিল— ‘যুদ্ধকে না এবং স্বাধীন ফিলিস্তিন’। তার এই সাহসী অবস্থান বিশ্বজুড়ে দর্শকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে।

















