কেনিয়ায় ভয়াবহ বন্যায় প্রাণহানি বেড়ে ১০৮

কেনিয়ায় গত কয়েক সপ্তাহের অবিরাম বৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১০৮ জনে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির পুলিশ বিভাগ।
শনিবার (২৮ মার্চ) সরকারি এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করে জানানো হয়, বন্যার পানি দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে প্লাবিত হওয়ায় কেবল জানমালের ব্যাপক ক্ষতিই হয়নি, বরং হাজার হাজার মানুষ তাদের ঘরবাড়ি হারিয়ে পুরোপুরি আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছেন। বিশেষ করে নিচু এলাকাগুলোতে পানির স্রোত এতটাই প্রবল ছিল যে অনেক মানুষ ভেসে গেছেন এবং নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধারকারী দলগুলো এখনো তল্লাশি অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
কেনিয়ার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের দেওয়া তথ্যমতে, বন্যায় রাস্তাঘাট ও ব্রিজ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অনেক এলাকা এখন মূল ভূখণ্ড থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা এবং জরুরি চিকিৎসা সেবা পৌঁছানো অত্যন্ত দুরূহ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পুলিশ প্রধান আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে কারণ অনেক দুর্গম এলাকায় এখনো উদ্ধারকারীরা পৌঁছাতে পারেননি। বর্তমানে কেনিয়া রেড ক্রস এবং সামরিক বাহিনীর সদস্যরা স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে উদ্ধারকাজে অংশ নিচ্ছেন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে পূর্ব আফ্রিকার দেশগুলোতে বৃষ্টির ধরণ আমূল বদলে গেছে, যার ফলশ্রুতিতে এই ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। কেনিয়া সরকারের পক্ষ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী নাগরিকদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে হাজার হাজার মানুষ অস্থায়ী শিবিরে আশ্রয় নিলেও সেখানে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিচ্ছে। প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম রুটো বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে জরুরি সহায়তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং এই মানবিক বিপর্যয় মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।
সূত্র: রয়টার্স।

















