‘ইমরান খান জেলে মরে গেলেও নীতি থেকে সরবেন না’

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও কিংবদন্তি ক্রিকেটার ইমরান খানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে যখন বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে, ঠিক তখনই বাবার অদম্য লড়াই নিয়ে মুখ খুললেন তাঁর দুই ছেলে সুলাইমান ও কাসিম খান। সম্প্রতি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য টাইমস’-এ সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক মাইকেল অ্যাথারটনের সাথে আলাপকালে তাঁরা জানান, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে কারাবন্দি থাকলেও নিজের আদর্শ থেকে এক চুলও বিচ্যুত হননি ইমরান।
২০২৩ সালে গ্রেফতারের পর থেকে একাধিক মামলার মুখোমুখি ইমরান খান বর্তমানে কঠিন সময় পার করছেন। সুলাইমান খান বলেন, পরিবার এখন বাবার বিপদের সঙ্গে মানিয়ে নিতে শিখে গেছে। কয়েক বছর আগে ইমরানের ওপর হওয়া হত্যাচেষ্টার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, “আগে কয়েকবার খুব কাছাকাছি ঘটনা ঘটেছে, যেমন তিনি গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন। এখন আমরা এক ধরনের শক্ত আবরণ তৈরি করে ফেলেছি। বাবা প্রকাশ্যে বলেছেন, নিজের নীতি থেকে সরে আসার চেয়ে তিনি জেলে মরতেও রাজি।”
লন্ডনে আরামদায়ক জীবন ছেড়ে কেন ইমরান পাকিস্তানে লড়াই করছেন, এমন প্রশ্নের জবাবে ছোট ছেলে কাসিম খান বাবার গভীর দেশপ্রেমের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “মানুষ বলে তিনি ইংল্যান্ডে এসে কোনো চুক্তি করলে ভালো হতো না? কিন্তু আমি জানি, অন্য রাজনৈতিক কর্মীদের জেলে রেখে আমাদের সঙ্গে বিলাসী জীবন কাটালে তিনি নিজের আয়নার সামনে দাঁড়াতে পারতেন না।”
কাসিম আরও যোগ করেন, তাঁর বাবার জীবন বৃহত্তর কিছুর জন্য উৎসর্গিত—পাকিস্তানের মানুষের জন্য, দারিদ্র্য বিমোচন ও দুর্নীতি দূর করার জন্য। এই লক্ষ্য ছাড়া অন্য কিছু তাঁকে কখনোই সুখী করতে পারত না।
সম্প্রতি ইমরান খানের চোখের সমস্যার খবর ছড়িয়ে পড়লে বিশ্বজুড়ে তাঁর অগণিত ভক্ত ও সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়। কারাবন্দি অবস্থায় যথাযথ চিকিৎসা পাচ্ছেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। তবে সব প্রতিকূলতা ছাপিয়ে ১৯৯২ বিশ্বকাপজয়ী এই অধিনায়ক নিজের অবস্থানে অনড়।
২০১৮ থেকে ২০২২ পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা ইমরান খানের ছেলেদের এই বক্তব্য দেশটির রাজনীতিতে এক নতুন বার্তা দিয়েছে। এই বার্তা হলো—হার না মানা মানসিকতা। কারাগারের চার দেয়ালও যে ইমরানের লক্ষ্যকে দমাতে পারছে না, সুলাইমান ও কাসিমের কথায় তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

















