ইন্দোনেশিয়ায় ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ

শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে ইন্দোনেশিয়া। দেশটিতে ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য ফেসবুক, টিকটক এবং ইনস্টাগ্রামসহ সব ধরনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
গত শুক্রবার (৬ মার্চ) ইন্দোনেশিয়ার যোগাযোগ ও ডিজিটাল বিষয়ক মন্ত্রী মিউতিয়া হাফিদ এই ঘোষণা দেন। তিনি জানান, শিশুদের ‘উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ’ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম থেকে দূরে রাখতে তিনি একটি সরকারি প্রবিধান স্বাক্ষর করেছেন। এই তালিকার মধ্যে জনপ্রিয় গেমিং প্ল্যাটফর্ম রুব্লক্স এবং লাইভস্ট্রিমিং সাইট বিগো লাইভও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
কার্যকরের সময়সীমা মন্ত্রী হাফিদ জানান, আগামী ২৮ মার্চ থেকে এই নিষেধাজ্ঞা পর্যায়ক্রমে কার্যকর করা শুরু হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের প্ল্যাটফর্ম থেকে ১৬ বছরের কম বয়সীদের অ্যাকাউন্ট শনাক্ত করে তা সরিয়ে ফেলার জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
বিবৃতিতে মন্ত্রী মিউতিয়া হাফিদ বলেন, “আমাদের শিশুরা এখন পর্নোগ্রাফি, সাইবার বুলিং, অনলাইন জালিয়াতি এবং সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয়—অ্যালগরিদম আসক্তির মতো বাস্তব হুমকির সম্মুখীন। সরকার এই পদক্ষেপ নিয়েছে যাতে অভিভাবকদের আর একাকী এই ‘অ্যালগরিদম দানবদের’ বিরুদ্ধে লড়াই করতে না হয়।” তিনি এই পরিস্থিতিকে একটি ‘ডিজিটাল জরুরি অবস্থা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
জনমত ও প্রতিক্রিয়া সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন রাজধানী জাকার্তার অনেক অভিভাবক। ৪৩ বছর বয়সী মারিয়ানাহ বলেন, “শিশুরা মোবাইলে কী দেখছে তার ওপর আমাদের নিয়ন্ত্রণ ছিল না। অনেক সময় তারা বিভ্রান্তিকর তথ্য বা ভিডিওর সংস্পর্শে আসছিল। এই পদক্ষেপ সময়োপযোগী।” তবে অনেক নাগরিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাশাপাশি অনলাইন জুয়া এবং পর্নোগ্রাফি সাইটগুলোও পুরোপুরি বন্ধ করার দাবি জানিয়েছেন।
টেক জায়ান্টদের ওপর চাপ চলতি সপ্তাহের শুরুতেই মেটা (ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মাদার কোম্পানি) এর জাকার্তা অফিসে আকস্মিক পরিদর্শন চালিয়েছে দেশটির তথ্য মন্ত্রণালয়। ক্ষতিকারক কন্টেন্ট নিয়ন্ত্রণে মেটার শিথিলতায় অসন্তোষ প্রকাশ করে কঠোর সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে টিকটক বা মেটা এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।
বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান প্রবণতা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ইন্দোনেশিয়াই প্রথম এই কঠোর পথ বেছে নিল। এর আগে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে অস্ট্রেলিয়া একই ধরনের আইন কার্যকর করেছিল, যার ফলে প্রায় ৪৭ লাখ অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে স্পেন, ফ্রান্স এবং যুক্তরাজ্যও শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সীমিত করার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে।
২৮.৫ কোটি জনসংখ্যার দেশ ইন্দোনেশিয়া বিশ্বজুড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অন্যতম বড় বাজার। ফলে এই নিষেধাজ্ঞা টেক জায়ান্ট কোম্পানিগুলোর ব্যবসায়িক মডেলে বড় প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

















