শুভ জন্মদিন বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান

বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের অকুতোভয় সারথী, বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমানের ৮৫তম জন্মবার্ষিকী আজ। ১৯৪১ সালের ২৯ অক্টোবর পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী আগা সাদেক রোডের মোবারক লজে জন্মগ্রহণ করেন এই বীর সন্তান।
তাঁর পৈতৃক নিবাস নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার রামনগর গ্রামে। মহান মুক্তিযুদ্ধে তাঁর অসীম সাহসিকতা ও আত্মত্যাগের ইতিহাস তরুণ প্রজন্মের কাছে আজও দেশপ্রেমের এক অনন্য নজির।
শৈশব থেকেই আকাশের বুকে ডানা মেলার স্বপ্ন দেখতেন মতিউর রহমান। ঢাকার ঐতিহ্যবাহী সরকারি মুসলিম হাই স্কুল থেকে ১৯৫৬ সালে ম্যাট্রিক পাসের পর তিনি ভর্তি হন ঢাকা কলেজে। এরপর তৎকালীন পাকিস্তান বিমানবাহিনীতে পাইলট হিসেবে যোগদানের মাধ্যমে শুরু হয় তাঁর কর্মজীবন।
১৯৬৩ সালে তিনি রিসালপুর পিএএফ একাডেমি থেকে পাইলট অফিসার হিসেবে কমিশন লাভ করেন। নিষ্ঠা ও যোগ্যতার বলে তিনি দ্রুতই ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট পদে উন্নীত হন এবং জেট বিমানের একজন দক্ষ ইনস্ট্রাক্টর হিসেবে সুনাম অর্জন করেন।
১৯৭১ সালে বাংলাদেশে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বরতার খবর পেয়ে মতিউর রহমান আর চুপ করে বসে থাকতে পারেননি। মাতৃভূমির স্বাধীনতার জন্য তিনি পাকিস্তান বিমানবাহিনীর করাচির মশরুর বিমানঘাঁটি থেকে একটি টি-৩৩ প্রশিক্ষণ বিমান ছিনতাই করে মুক্তিসংগ্রামে যোগ দেওয়ার এক দুঃসাহসিক পরিকল্পনা করেন।
১৯৭১ সালের ২০ আগস্ট তরুণ পাইলট রশিদ মিনহাজকে ক্লোরোফর্ম দিয়ে অচেতন করে বিমানটি নিয়ে বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে উড়াল দেন তিনি। লক্ষ্য ছিল ভারতীয় আকাশসীমায় প্রবেশ করে বিমানটি নিয়ে সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়া। কিন্তু ভারতীয় সীমান্তের মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরে জ্ঞান ফিরে পাওয়া পাকিস্তানি কো-পাইলটের সঙ্গে শুরু হয় আকাশেই জীবনপণ ধস্তাধস্তি। একপর্যায়ে সিন্ধু প্রদেশের থাট্টা এলাকায় বিমানটি বিধ্বস্ত হলে মাত্র ২৯ বছর বয়সে শাহাদাতবরণ করেন এই মহান বীর।
স্বাধীনতার পর পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ তাঁকে করাচির মাশরুর বেসের চতুর্থ শ্রেণীর কবরস্থানে অবহেলায় দাফন করে। দীর্ঘ ৩৫ বছর পর, ২০০৬ সালের ২৪ জুন তাঁর পবিত্র দেহাবশেষ পাকিস্তান থেকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্বাধীন বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হয়। বর্তমানে মিরপুরের শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন এই বীরশ্রেষ্ঠ।



