শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার ভুচিচের পদত্যাগ

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করেছেন সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার ভুচিচ। সোমবার এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। বেলগ্রেডে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন ভুচিচ। এ সময় বাইরে জড়ো হওয়া সমর্থকেরা তার নাম ধরে স্লোগান দেন।
ভুচিচ বলেন, ‘আমি প্রেসিডেন্ট পদ থেকে পদত্যাগ করছি। আগামীকাল সকালে পার্লামেন্টের স্পিকারের কাছে আমি দায়িত্ব হস্তান্তর করব।’
প্রায় দুই বছর ধরে দেশটিতে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে সরকারি দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন চলছিল। তাদের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল আগাম নির্বাচন। তার সরকারের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে কখনো কখনো লাখো মানুষও যোগ দেন।
২০২৪ সালের নভেম্বরে নোভি সাদ রেলওয়ে স্টেশনের একটি ছাউনি ধসে ১৬ জন নিহত হওয়ার পর এই আন্দোলন শুরু হয়। ওই দুর্ঘটনার জন্য সরকারি দুর্নীতিকে দায়ী করে শিক্ষার্থীরা।
২০০০ সালে আন্দোলনের মুখে যুগোস্লাভিয়ার শাসক স্লোবোদান মিলোসেভিচের সরকার পতনের পর সার্বিয়ায় এত বড় বিক্ষোভ আর দেখা যায়নি।
রেল দুর্ঘটনার পর, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের শুরুর দিকে স্বচ্ছ তদন্তের দাবি থাকলেও পরে তা আগাম নির্বাচনের দাবিতে রূপ নেয়। ভুচিচ বারবার নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দিলেও কোনো তারিখ ঘোষণা করেননি।
চলতি মাসের শুরুতে তিনি ২৫ অক্টোবর নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেন। এ জন্য তিনি ‘দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের অস্থিরতার’কথা উল্লেখ করেন।
২০১৭ সালে প্রথমবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন ভুচিচ। পরবর্তী সময়ে ২০২২ সালের মে মাসে পুনর্নির্বাচিত হন তিনি। তবে অক্টোবরের নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী পদে লড়তে আগ্রহী ভুচিচ তার পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই পদত্যাগ করলেন।
তবে দেশটির প্রচলিত আইন অনুযায়ী তার পদত্যাগ বাধ্যতামূলক ছিল না। ভুচিচ বলেন, ‘আমি একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে, জনগণের একজন হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চাই।’
দলের নেতা হিসেবে ডানপন্থী সার্বিয়ান প্রগ্রেসিভ পার্টির ব্যানারে নির্বাচনে অংশ নেবেন তিনি।
পদত্যাগের কয়েক মিনিট আগে ভুচিচ তার সাংবিধানিক ক্ষমতা ব্যবহার প্রায় অর্ধশত মানুষকে ক্ষমা করেন। তাদের মধ্যে শিক্ষার্থী এবং তার দলের অনুগত ব্যক্তিরাও রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চলাকালে অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ ছিল।
বিক্ষোভের প্রসঙ্গ টেনে ভুচিচ বলেন, ‘আমি ৪৯ জনকে ক্ষমা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তাদের মধ্যে ২৩ জন গত দেড় বছরে আমরা যে ভয়াবহ ঘটনাগুলোর মধ্য দিয়ে গেছি, সেগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।’
আইন অনুযায়ী, এখন সংসদের স্পিকার আনা ব্রনাবিচ সর্বোচ্চ তিন মাসের জন্য ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেবেন। এই সময়ের মধ্যে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করতে হবে।








