জনকল্যাণ ও মানবিকতার বার্তা নিয়ে মেয়র হতে চান হাবিবুর

সাহানাত মাসুম বাবু: চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার নারায়ণপুর পৌরসভায় সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীদের নিয়ে যখন রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আলোচনা চলছে, তখন আলোচনার শীর্ষে উঠে এসেছে একটি নাম— মো. হাবিবুর রহমান। কৃষি উন্নয়ন, উদ্যোক্তা সৃষ্টি, শিক্ষা বিস্তার, সামাজিক কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা তার দীর্ঘ কর্মযজ্ঞ ইতোমধ্যে তাকে স্থানীয় জনগণের কাছে একজন গ্রহণযোগ্য ও সম্ভাবনাময় নেতৃত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
স্থানীয়দের মতে, প্রচলিত রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে একজন সফল উদ্যোক্তা, দক্ষ সংগঠক এবং সমাজসেবক হিসেবে মো. হাবিবুর রহমানের যে পরিচিতি রয়েছে, তা তাকে অন্যান্য সম্ভাব্য প্রার্থীদের তুলনায় আলাদা অবস্থানে নিয়ে এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখ, কৃষকের উন্নয়ন, তরুণদের কর্মসংস্থান এবং শিক্ষার প্রসারে কাজ করে আসছেন।
কৃষি উন্নয়ন ও উদ্যোক্তা তৈরিতে অনন্য ভূমিকা
অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী মো. হাবিবুর রহমান বর্তমানে দেশের জৈব কৃষি আন্দোলনের একজন পরিচিত মুখ। তিনি “এইচ. এস. বন্ধু ভার্মিকম্পোস্ট”-এর প্রতিষ্ঠাতা ও স্বত্বাধিকারী হিসেবে পরিবেশবান্ধব কৃষি ব্যবস্থার প্রসারে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
জানা যায়, ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে খুলনা অঞ্চলে বাস্তবায়িত বৃহৎ কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পে তিনি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। তার নেতৃত্ব ও তত্ত্বাবধানে ৩০০টি ভার্মিকম্পোস্ট ইউনিট স্থাপন করা হয় এবং কৃষকদের মধ্যে প্রায় ৩০০ মেট্রিক টন কেঁচোসার সরবরাহ করা হয়। প্রকল্পের প্রশিক্ষক হিসেবে তিনি শত শত কৃষককে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন এবং মাটির উর্বরতা রক্ষার বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করেন।
২০১৪ সাল থেকে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন এবং জৈব কৃষি সম্প্রসারণে তার ধারাবাহিক কাজ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রশংসিত হয়েছে। কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কমানো, মাটির স্বাস্থ্য উন্নয়ন এবং বিষমুক্ত খাদ্য উৎপাদনের বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে তার ভূমিকা উল্লেখযোগ্য।
দেশ-বিদেশে প্রশিক্ষণ গ্রহণ ও দক্ষ নেতৃত্বের বিকাশ
একজন উদ্যোক্তা ও প্রশিক্ষক হিসেবে নিজেকে দক্ষ করে তুলতে মো. হাবিবুর রহমান বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেছেন। ভারতের Training of Trainers (ToT), SME Foundation-এর ব্যবসা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ, বাংলাদেশ ব্যাংক ও SEIP-এর উদ্যোক্তা উন্নয়ন কর্মসূচি, VAT ব্যবস্থাপনা, টিস্যু কালচার, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (DAE) প্রশিক্ষণ এবং তিন মাসব্যাপী YDTC প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন কোর্স সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন।
এসব প্রশিক্ষণের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তিনি তরুণ উদ্যোক্তাদের পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছেন। তার মাধ্যমে অনেক তরুণ কৃষি ও ক্ষুদ্র ব্যবসাভিত্তিক উদ্যোগে আত্মকর্মসংস্থানের পথ খুঁজে পেয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
শিক্ষা বিস্তার ও মানবিক উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা
কৃষির পাশাপাশি শিক্ষা ও মানবিক উন্নয়নেও রয়েছে তার বিশেষ অবদান। নারায়ণপুরের নাদিম খার দীঘির পাড় এলাকায় কুয়েতের অর্থায়নে একটি আধুনিক মাদ্রাসা ভবন নির্মাণে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। প্রায় ৭০ ফুট × ২৬ ফুট আয়তনের এই ভবনটি নির্মাণের জন্য বিদেশি সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ, আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা এবং প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষেত্রে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠানটিতে শতাধিক দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত শিশু শিক্ষার সুযোগ পাচ্ছে। এলাকাবাসীর মতে, শিক্ষাবঞ্চিত শিশুদের জন্য এটি একটি নিরাপদ ও মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করেছে। অনেক পরিবার, যারা অর্থনৈতিক সংকটের কারণে সন্তানদের ভালো শিক্ষার সুযোগ দিতে পারতেন না, তারাও এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে উপকৃত হচ্ছেন।
সামাজিক কর্মকাণ্ডে মানুষের পাশে
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, মো. হাবিবুর রহমান সবসময় সাধারণ মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেন। বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক উদ্যোগ, দরিদ্র পরিবারকে সহায়তা, শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা এবং কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদানের মাধ্যমে তিনি মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন।
তার বিশ্বাস, একটি এলাকার প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব তখনই, যখন কৃষি, শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং সামাজিক নিরাপত্তা একসঙ্গে নিশ্চিত করা যায়। এই দর্শনকে সামনে রেখেই তিনি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছেন।
রাজনৈতিক অঙ্গনে ক্রমবর্ধমান গ্রহণযোগ্যতা
রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও মো. হাবিবুর রহমান বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর এসএমই উইং কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, চাঁদপুর জেলা এনসিপির ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক এবং চাঁদপুর পশ্চিমাঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
তার তত্ত্বাবধানে রয়েছে চাঁদপুর সদর, হাইমচর, মতলব উত্তর ও মতলব দক্ষিণ উপজেলা। রাজনৈতিক কর্মী ও নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ, সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা এবং জনসম্পৃক্ত কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের মাধ্যমে তিনি একটি শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছেন।
সম্ভাবনাময় মেয়র প্রার্থী হিসেবে আলোচনায়
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সময়ে জনগণ শুধু রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়, বরং সততা, দক্ষতা, শিক্ষাগত যোগ্যতা, উন্নয়ন ভাবনা এবং জনসেবার মানসিকতার ভিত্তিতে নেতৃত্ব মূল্যায়ন করছে। সেই বিবেচনায় মো. হাবিবুর রহমান একজন শক্তিশালী ও সম্ভাবনাময় মেয়র প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই মনে করেন, কৃষি, শিক্ষা, ব্যবসা ও সামাজিক উন্নয়নে তার বাস্তব অভিজ্ঞতা নারায়ণপুর পৌরসভার উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাদের প্রত্যাশা, সুযোগ পেলে তিনি একটি আধুনিক, পরিকল্পিত ও জনবান্ধব পৌরসভা গঠনে কার্যকর ভূমিকা পালন করবেন।
নারায়ণপুর পৌরসভায় আগামী দিনের নেতৃত্ব নিয়ে যখন আলোচনা চলছে, তখন উন্নয়ন, মানবসেবা এবং উদ্যোক্তা নেতৃত্বের প্রতীক হিসেবে মো. হাবিবুর রহমানের নাম স্থানীয় জনগণের মুখে মুখে উচ্চারিত হচ্ছে। রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের আড্ডা—সবখানেই তিনি এখন আলোচনার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু।

















