দেশজুড়ে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২৮, টাঙ্গাইলেই রডের নিচে পিষ্ট ১৫

পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটিতে আপনজনদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতে বাড়ি ফেরার পথে দেশজুড়ে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় ২৮ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে কেবল টাঙ্গাইলের কালিহাতীতেই রডবোঝাই ট্রাক উল্টে এর নিচে পিষ্ট হয়ে মারা গেছেন ১৫ জন শ্রমজীবী মানুষ। এছাড়া বগুড়ায় মা-মেয়ে ও বাবা-মেয়েসহ চারজন, কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে একই পরিবারের তিনজন এবং ঝালকাঠি, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, গাইবান্ধা, নওগাঁ, সিরাজগঞ্জ ও মানিকগঞ্জে পৃথক দুর্ঘটনায় আরও ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।
সোমবার (২৫ মে) ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন মহাসড়কে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাগুলো ঘটে।
কালিহাতীতে ট্রাকের রডের নিচে পিষ্ট ১৫ ফেরিওয়ালা
টাঙ্গাইলের যমুনা সেতু পূর্বপ্রান্তের কালিহাতী উপজেলার সরাতৈল এলাকায় সোমবার ভোর সোয়া ৪টার দিকে লোহা ও রডবোঝাই একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে উল্টে যায়। এতে ট্রাকের ওপরে থাকা যাত্রীরা লোহার ভারী বারের নিচে চাপা পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই ১৫ জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ১০ জনই নওগাঁর বাসিন্দা এবং পেশায় তাঁরা ছিলেন লেইস ফিতা ও খেলনা সামগ্রীর ফেরিওয়ালা। এই ঘটনায় গুরুতর আহত আরও ১০ জনকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
হাইওয়ে পুলিশ জানায়, ঈদুল আজহা উপলক্ষে মহাসড়কে পণ্যবাহী যান ও ট্রাকে যাত্রী পরিবহন নিষিদ্ধ থাকলেও ঢাকা মেট্রো-ট-১২-৫৪৭১ নম্বরের ট্রাকটি রোববার দুপুরে চট্টগ্রামের অলংকার মোড় থেকে রওনা হয়। পথে ফেনী ও ঢাকা থেকে আরও যাত্রী তুলে প্রায় ৩০ জন আরোহী নিয়ে সাড়ে তিনশ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে যমুনা সেতু পর্যন্ত চলে আসে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, টানা ১৬ ঘণ্টা গাড়ি চালানোর কারণে চালক ক্লান্ত ছিলেন অথবা চলন্ত অবস্থায় ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। ঘটনার পর চালক পলাতক রয়েছে। টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারকে ২৫ হাজার এবং আহতদের ১৫ হাজার টাকা করে সহায়তার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী ও হাইওয়ে পুলিশের বক্তব্য
দুর্ঘটনার পর সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম চালকের ভুলকে দায়ী করে বলেন, “প্রাথমিক তথ্য ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য অনুযায়ী চালক নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণেই এই অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা ঘটেছে। তবে সড়ক ব্যবস্থাপনায় কোনো ত্রুটি ছিল না।” অন্যদিকে, হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মো. দেলোয়ার হোসেন মিঞা জানান, ট্রাকের চারপাশের বেষ্টনী উচুঁ থাকায় বাইরে থেকে যাত্রী বোঝার উপায় ছিল না। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই গরিব শ্রমজীবী মানুষেরা বাসের চড়া ভাড়া দিতে অক্ষম হওয়ায় ট্রাকে যাতায়াত করেন। ঈদে তাঁদের জন্য সরকারিভাবে সাশ্রয়ী বা ভর্তুকি ভাড়ার ব্যবস্থা করা ছাড়া এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধ করা কঠিন।
দেশের অন্য অঞ্চলের দুর্ঘটনাচিত্র
বগুড়া: ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের শাজাহানপুরে ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী ব্র্যাক কর্মকর্তা আনিছুর রহমান (৩৫) ও তাঁর চার বছরের মেয়ে পুষ্প নিহত হয়েছেন। একই দিন বিকেলে কাহালুর কাজীপাড়ায় বাসচাপায় ভ্যানযাত্রী মা জেমি আক্তার (৩৮) ও মেয়ে তাইফা আyesha তনু (১৯) নিহত হন।
মিঠামইন (কিশোরগঞ্জ): অষ্টগ্রাম-মিঠামইন অলওয়েদার সড়কে পিকআপ ভ্যানের চাপায় মোটরসাইকেল আরোহী একই পরিবারের তিনজন নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন মনির হোসেন (৩৫), তাঁর স্ত্রী মুন্নি আক্তার (৩০) ও তাঁদের ৬ বছরের সন্তান আয়ান।
গোপালগঞ্জ ও ঝালকাঠি: গোপালগঞ্জের সোনাশুরে বাস, মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকারের ত্রিমুখী সংঘর্ষে মাইক্রোবাস চালক নিহত এবং ১৫ জন আহত হয়েছেন। ঝালকাঠির রাজাপুরে এক্সক্যাভেটরের ধাক্কায় সিহাব উদ্দীন নামের এক ব্র্যাক কর্মকর্তা মোটরবাইক আরোহী নিহত হন।
অন্যান্য: ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় মোটরবাইকের ধাক্কায় মুদি দোকানি নান্নু মিয়া (৬৫), গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে মোটরবাইক দুর্ঘটনায় অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত জেলা জজ এম এ আউয়াল সরকার (৫৫), নওগাঁর পত্নীতলায় সড়ক দুর্ঘটনায় অটোভ্যান চালকসহ দুজন, সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে পৃথক দুর্ঘটনায় দুই শিশু এবং মানিকগঞ্জে মোটরবাইক ও সিএনজি সংঘর্ষে এক তরুণ নিহত হয়েছেন।







