সাবেক স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী মিজানুর রহমান সিনহা আর নেই

দেশের শীর্ষস্থানীয় ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান একমি ল্যাবরেটরিজ লিমিটেড অ্যান্ড গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং সাবেক স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মিজানুর রহমান সিনহা মারা গেছেন।
গতকাল শুক্রবার (১৫ মে) রাত ২টার দিকে সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর।
মিজানুর রহমান সিনহার মেয়ে তাসনিম সিনহা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বাবার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এদিকে, প্রবীণ এই রাজনীতিবিদের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। এক শোকবার্তায় তিনি মরহুমের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
১৯৪৩ সালের ১৮ আগস্ট মুন্সীগঞ্জ জেলার লৌহজং উপজেলার কলমা ইউনিয়নের ডহুরী গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন মিজানুর রহমান সিনহা। তার বাবার নাম হামিদুর রহমান সিনহা এবং মাতার নাম নূরজাহান সিনহা। শৈশবে কলকাতায় বেড়ে ওঠা সিনহা পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জের সরকারি তোলারাম কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবসায় স্নাতক (বি কম) ডিগ্রি অর্জন করেন।
১৯৬৪ সালে হাবিব ব্যাংকে যোগদানের মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করলেও, ১৯৭৫ সালে বাবার মৃত্যুর পর তিনি পারিবারিক ব্যবসা ‘একমি গ্রুপ’-এ যুক্ত হন। ১৯৮৩ সাল থেকে মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তিনি অত্যন্ত সফলতার সাথে গ্রুপটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। মুন্সীগঞ্জে তার পৈতৃক বাসস্থান ‘সিনহা হাউজ’ দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় একটি অন্যতম দর্শনীয় স্থান হিসেবে পরিচিত।
মিজানুর রহমান সিনহার রাজনৈতিক জীবনের শুরু ছাত্রজীবনে। সরকারি তোলারাম কলেজে অধ্যয়নকালে তিনি ছাত্র ইউনিয়নের প্রার্থী হিসেবে ছাত্র সংসদ নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক (জিএস) নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ১৯৯০ সালে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে (বিএনপি) যোগদান করেন। তিনি দীর্ঘদিন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির কোষাধ্যক্ষ হিসেবে ২২ জানুয়ারি ২০২০ পর্যন্ত সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেন।
বিএনপির মনোনয়নে মুন্সীগঞ্জ-২ (লৌহজং-টঙ্গীবাড়ি) আসন থেকে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে তিনি দুবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ সালে চারদলীয় জোট সরকার গঠিত হলে তিনি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। সবশেষ ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে তাকে মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মুন্সীগঞ্জ-২ আসন থেকে প্রথমে দলীয় মনোনয়ন পেলেও, হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ায় তার স্থলে বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুল সালাম আজাদকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। তার এই আকস্মিক প্রয়াণে মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপি ও একমি পরিবারের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।







