আইএসের দ্বিতীয় শীর্ষ নেতাকে হত্যার দাবি ডোনাল্ড ট্রাম্পের

নাইজেরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও নাইজেরিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর যৌথ সামরিক অভিযানে আন্তর্জাতিক জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস)-এর দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা আবু-বিলাল আল-মিনুকি নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
শুক্রবার এক পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘সাহসী মার্কিন বাহিনী এবং নাইজেরিয়ার সশস্ত্র বাহিনী অত্যন্ত নিখুঁতভাবে একটি জটিল ও পরিকল্পিত অভিযান পরিচালনা করে বিশ্বের সবচেয়ে সক্রিয় সন্ত্রাসীকে মাঠ থেকে সরিয়ে দিয়েছে।’
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, আল-মিনুকি আফ্রিকায় লুকিয়ে থেকে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিলেন এবং তার গতিবিধি সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দারা দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত তথ্য পাচ্ছিলেন। অভিযানে নাইজেরিয়া সরকারের সরাসরি সহযোগিতা থাকায় তিনি দেশটির প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে এই অভিযানের বিস্তারিত সময় বা অবস্থান সম্পর্কে তিনি কিছু জানাননি।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ২০২৩ সাল থেকেই আবু-বিলাল আল-মিনুকিকে বিশেষ বৈশ্বিক সন্ত্রাসী (গ্লোবাল টেররিস্ট) হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছিল। ট্রাম্পের মতে, এই শীর্ষ নেতার আকস্মিক মৃত্যুতে আইএসের বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক এবং তাদের সন্ত্রাসী কার্যক্রম বড় ধরনের ধাক্কা ও ক্ষতির মুখে পড়বে।
অন্যদিকে, নাইজেরিয়ায় বোকো হারাম ও আইএস সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর কারণে দীর্ঘদিন ধরে অভ্যন্তরীণ সহিংসতা ও অস্থিতিশীলতা চলছে। নাইজেরিয়া সরকার অবশ্য এর আগেও আন্তর্জাতিক মহলকে জানিয়েছে, এসব উগ্রপন্থী গোষ্ঠী ধর্মের তোয়াক্কা না করে মুসলিম ও খ্রিস্টান—দুই সম্প্রদায়ের ওপরই সমানভাবে রক্তক্ষয়ী হামলা চালিয়ে আসছে।
আফ্রিকা অঞ্চলে সন্ত্রাসবাদ দমনে নাইজেরিয়ার সাথে যৌথভাবে কাজ করছে মার্কিন প্রশাসন। এর আগে ২০২৫ সালের ক্রিসমাস ডে-তে (২৫ ডিসেম্বর) নাইজেরিয়ার সোকোটো রাজ্যে আইএস অবস্থান লক্ষ্য করে মার্কিন বিমান বাহিনী একটি বড় ধরনের সফল হামলা চালিয়েছিল।
বর্তমানে নাইজেরিয়া সরকারের অনুরোধে দেশটির মাটিতে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকশ সেনা মোতায়েন রয়েছে। তবে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর (পেন্টাগন) জানিয়েছে, এই সেনারা সরাসরি কোনো সম্মুখ যুদ্ধে অংশ না নিয়ে মূলত নাইজেরীয় বাহিনীকে প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানের কাজে লজিস্টিক সাপোর্ট দিয়ে যাচ্ছে।







