ইরানি তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ইঙ্গিত ট্রাম্পের

ইরান থেকে তেল আমদানির দায়ে অভিযুক্ত চীনা কোম্পানিগুলোর ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টি বিবেচনা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চলমান বৈশ্বিক সংঘাত এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের তীব্র অস্থিরতার মধ্যেই ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছ থেকে এমন চাঞ্চল্যকর ইঙ্গিত এলো।
চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শেষে ওয়াশিংটনে ফেরার পথে ‘এয়ারফোর্স ওয়ান’-এ সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প নিজেই এই তথ্য নিশ্চিত করেন। ট্রাম্প বলেন, “আমরা বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি এবং আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আমি এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেব।”
সাংবাদিকরা ট্রাম্পের কাছে জানতে চেয়েছিলেন, পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ পুনরায় উন্মুক্ত করতে ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টির বিষয়ে শি জিনপিং কোনো দৃঢ় প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন কি না। জবাবে ট্রাম্প জানান, তিনি দ্বিপাক্ষিক কূটনীতিতে কারো কাছ থেকে কোনো বাড়তি সুবিধা বা আনুকূল্য আশা করছেন না। ট্রাম্প বলেন, “কারো কাছ থেকে সুবিধা নিলে বিনিময়ে নিজেকেও সুবিধা দিতে হয়। তবে আমি বিশ্বাস করি, শি জিনপিং নিজেই হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত দেখতে চান। কারণ চীন তাদের প্রয়োজনীয় তেলের একটি বড় অংশ পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে আমদানি করে।” এই প্রসঙ্গে ট্রাম্প জোরালো দাবি করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই অঞ্চলের জ্বালানির কোনো প্রয়োজন নেই।
জ্বালানি বাজার বিশ্লেষণকারী বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠান ‘কেপলার’-এর তথ্য অনুযায়ী, ইরান বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ তেল উৎপাদনকারী দেশ। ২০১৫ সালে দেশটি দৈনিক গড়ে প্রায় ১৬ লাখ ৯০ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত তেল রপ্তানি করেছে। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, ইরানের এই রপ্তানিকৃত তেলের প্রায় ৯০ শতাংশই যায় চীনে। তবে বেইজিং বরাবরই ইরানের ওপর আরোপিত মার্কিন একতরফা নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করে আসছে এবং নিজেরাও ইরানের তেলের ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা দেয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরান সাধারণত পুরনো এবং পরিচয় গোপনকারী ট্যাঙ্কার বহরের (ডার্ক ফ্লিট) মাধ্যমে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ করে থাকে। বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, চীন আনুষ্ঠানিকভাবে ইরান থেকে তেল আমদানির কথা স্বীকার করে না। অনেক সময় ট্র্যাকিং এড়াতে এই তেলের উৎস হিসেবে মালয়েশিয়ার নাম ভুলভাবে প্রদর্শন করা হয়। বর্তমান উত্তপ্ত ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের এই সম্ভাব্য সিদ্ধান্ত বৈশ্বিক জ্বালানি রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্র: সিএনএন।

















