নিয়োগ বাণিজ্য ও টেন্ডার সিন্ডিকেট বন্ধ করায় ডিজির বিরুদ্ধে অপপ্রচার

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) দীর্ঘদিনের জগদ্দল পাথর হয়ে বসে থাকা দুর্নীতি ও নিয়োগ বাণিজ্যের মূলে আঘাত হানায় এখন কায়েমি স্বার্থান্বেষী মহলের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছেন বর্তমান মহাপরিচালক (ডিজি) মোঃ হাসান মারুফ। গত বছর মার্চ মাসের ৪ তারিখে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে নিয়োগ বাণিজ্য বন্ধ, কেনাকাটায় স্বচ্ছতা এবং বদলি সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়ায় তার বিরুদ্ধে একটি প্রভাবশালী পক্ষ পরিকল্পিত অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে।
ডিএনসিতে একসময় নিয়োগ মানেই ছিল কোটি কোটি টাকার লেনদেন। বর্তমান মহাপরিচালক সেই প্রথা ভেঙে ৩০৯ জন কর্মচারী নিয়োগে এক অভাবনীয় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করেছেন। মাত্র ১৫৫ টাকা ফি দিয়ে টেলিটকের মাধ্যমে আবেদনের সুযোগ দিয়ে সম্পূর্ণ মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে এই নিয়োগ সম্পন্ন করা হয়। অধিদপ্তরের সূত্রমতে, এই প্রক্রিয়ার ফলে কয়েকশ কোটি টাকার অবৈধ বাণিজ্যের স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়েছে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটের। আর এরপর থেকেই ডিজিকে বিতর্কিত করার অপতৎপরতা শুরু হয়।
অধিদপ্তরের কেনাকাটা ও টেন্ডারে একচেটিয়া আধিপত্য ছিল একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর। মোঃ হাসান মারুফ দায়িত্ব নেওয়ার পর সব ধরনের কেনাকাটা শতভাগ সরকারি ই-জিপি (e-GP) সিস্টেমের আওতায় নিয়ে আসেন। এতে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় কমিশনভোগী ও মধ্যস্বত্বভোগীদের অবৈধ আয়ের পথ চিরতরে বন্ধ হয়ে গেছে।
একটি পক্ষ ডিজিকে বিগত সরকারের সুবিধাভোগী হিসেবে প্রচারের চেষ্টা করলেও অনুসন্ধানে ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে। বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান মোঃ হাসান মারুফ গত ১৭ বছরে কোনো প্রভাবশালী বা রাজনৈতিক আশীর্বাদপুষ্ট পদে ছিলেন না। বরং দীর্ঘ সময় তিনি ঢাকার বাইরে অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মরত ছিলেন। কর্মকর্তাদের মতে, তিনি রাজনৈতিক তকমাধারী হলে বিগত সরকারের আমলে একাধিক লাভজনক ও নীতিনির্ধারণী পদে আসীন থাকতেন।
অধিদপ্তরের শৃঙ্খলা ফেরাতে তিনি বছরের পর বছর একই স্টেশনে থাকা কর্মকর্তাদের বদলি এবং মাদকবিরোধী অভিযানে অনিয়মে জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ শুরু করেছেন। এই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির ফলে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে অসাধু কর্মকর্তারা। এছাড়াও তিনি ডোপ টেস্ট বিধিমালা প্রণয়ন, বিভাগীয় শহরগুলোতে ১৪০০ শয্যার নিরাময় কেন্দ্র স্থাপন এবং সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট গঠনের মতো দূরদর্শী উদ্যোগ নিয়েছেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, অসাধু ব্যবসায়ীদের ‘প্রিকারসর’ আমদানির অন্যায্য কোটা বৃদ্ধির দাবি প্রত্যাখ্যান এবং বিশেষ কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তির আত্মীয়কে অনৈতিক সুবিধা না দেওয়াই তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, মাদক দমনের মতো স্পর্শকাতর খাতে একজন সংস্কারমুখী কর্মকর্তাকে বিতর্কিত করার চেষ্টা মূলত রাষ্ট্রীয় সংস্কার প্রক্রিয়াকেই বাধাগ্রস্ত করার নামান্তর।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যক্তিগত আক্রমণ করে সংস্কার বন্ধ করার এই অপচেষ্টা রুখে দিয়ে জনস্বার্থেই সৎ ও নিষ্ঠাবান কর্মকর্তাদের স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়া উচিত।










