বাড়ির আঙিনায় চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন লিমন

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় হত্যাকাণ্ডের শিকার বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমনের মরদেহ আজ সোমবার গ্রামের বাড়িতে পৌঁছাবে। জামালপুরের মাদারগঞ্জের কড়ইচড়া ইউনিয়নের মহিষবাথান গ্রামে তাকে দাফন করা হবে। সকাল থেকেই তাদের বাড়িতে জড়ো হচ্ছেন স্বজন ও প্রতিবেশীরা।
এর আগে আজ সকাল ৮টা ৪৭ মিনিটে লিমনের মরদেহবাহী উড়োজাহাজ ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। আনুষ্ঠানিকতা শেষে সকাল ১০টার দিকে মরদেহ বহনকারী গাড়িটি জামালপুরের উদ্দেশে রওনা হয়।
বিকেলে মরদেহ পৌঁছানোর পর মাগরিবের নামাজ শেষে জানাজার পর বাড়ির আঙিনার পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে। জামিল আহমেদ ওরফে লিমন জহুরুল হকের ছেলে। কর্মসূত্রে জহুরুল হক দীর্ঘদিন গাজীপুরের মাওনা এলাকায় বসবাস করেন। সেখানেই লিমনের বেড়ে ওঠা ও পড়াশোনা। দুই ভাইয়ের মধ্যে লিমন ছিলেন বড়। ছোট ভাই জোবায়ের হোসেন। পরিবারের বড় সন্তানকে ঘিরে সবার অনেক স্বপ্ন ছিল, যা এখন শোকে রূপ নিয়েছে।
সকালে দেখা গেছে, মাদারগঞ্জের বাড়িটিতে শোকে নেমে এসেছে নীরবতা। পরিবারের অধিকাংশ সদস্য ঢাকায় থাকায় বাড়িতে লোকসমাগম তখনো কম ছিল। বাড়ির পূর্ব পাশে পারিবারিক কবরস্থানে কবর খোঁড়ার কাজ চলছিল। শোকাহত স্বজনেরা ২৭ বছর বয়সী এই তরুণের অকালমৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না।
লিমনের চাচা জিয়াউল হক জানান, ‘শান্ত ও ভদ্র স্বভাবের এই ছেলেটি আমাকে প্রায়ই বলত, ‘আমার জন্য দোয়া করবেন যেন পড়াশোনা শেষ করে দেশের জন্য কিছু করতে পারি; বাবা-মায়ের মুখ উজ্জ্বল করতে পারি।” বিদেশে থাকাকালে সে বলেছিল, শিগগিরই দেশে ফিরবে। কিন্তু সেই ফেরা ফিরল নিথর দেহ হয়ে।’ কথার এই পর্যায়ে নিজেকে সামলে ধরে আসা গলায় তিনি আরও বলেন, ‘জ্যাঠা হয়ে ভাতিজার কবর খোঁড়া কতটা কষ্টের, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।’
লিমন সবার খুব আদরের ছিলেন জানিয়ে জিয়াউল হক বলেন, তাই পরিবারের সিদ্ধান্তে বাড়ির আঙিনাতেই তাকে দাফনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তার মরদেহ বিকেল চারটার মধ্যে বাড়িতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
লিমন ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন। গত ১৬ এপ্রিল তিনি নিখোঁজ হন। লিমনের সঙ্গে নিখোঁজ হন নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি (২৭)। তাদের এক বন্ধু বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নজরে আনেন।
এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে জামিলের রুমমেট মার্কিন নাগরিক হিশাম আবুঘরবেহকে তার পারিবারিক বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় থেকে বলা হয়, আবুঘরবেহকে জিজ্ঞাসাবাদের পর ২৪ এপ্রিল ফ্লোরিডার হাওয়ার্ড ফ্রাঙ্কল্যান্ড ব্রিজ এলাকায় আবর্জনা ফেলার কালো রঙের কয়েকটি ব্যাগের মধ্যে জামিলের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ খুঁজে পাওয়া যায়।


