দেশে পৌঁছেছে বৃষ্টির কফিন, বিকেলে মাদারীপুরে দাফন

যুক্তরাষ্ট্রে নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার পিএইচডি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মরদেহ দেশে পৌঁছেছে।
শনিবার সকাল ৯টা ১০ মিনিটে দুবাই থেকে এমিরেটস এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে সকাল তার কফিন ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দরে আসে। বৃষ্টির মরদেহ গ্রহণ করতে তার বাবা–মা, মামাসহ পরিবারের সদস্যরা বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন।
বৃষ্টির নানা আব্দুল আলী বলেন, ‘মরদেহ গ্রহণের পরপরই সেটি মাদারীপুরে গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হবে। সেখানেই বাদ আসর বৃষ্টির জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে দাদা–দাদির কবরের পাশে তাকে দাফন করা হবে।’
এর আগে ফ্লোরিডার অরল্যান্ডো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার রাত ৮টা ৫০ মিনিটে এমিরেটসের ইকে–০২২০ ফ্লাইটে বৃষ্টির কফিন ঢাকার উদ্দেশে পাঠানো হয়।
বৃষ্টির কফিন বিমানে তোলার সময় অরল্যান্ডো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মায়ামির বাংলাদেশ কনস্যুলেটের একজন প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। এর আগে স্থানীয় সময় বুধবার টাম্পায় বৃষ্টির প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। একই ঘটনায় নিহত জামিল আহমেদ লিমনের মরদেহ গত ৪ মে দেশে পৌঁছায়।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক জামিল আহমেদ লিমন যুক্তরাষ্ট্রে ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন। আর নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি একই বিশ্ববিদ্যালয়ে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে পড়াশোনা করছিলেন।
গত ১৬ এপ্রিল এই দুই শিক্ষার্থী নিখোঁজ হন। তাদের ফোন বন্ধ পাওয়া গেলে পরিবারের সদস্যরা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
পরে গত ২৪ এপ্রিল স্থানীয় একটি সেতুর কাছ থেকে লিমনের মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তারপর পুলিশ বৃষ্টির পরিবারকে ফোনে জানায়, তাকেও হত্যা করা হয়েছে।
লিমনের মরদেহ উদ্ধারের পর ওইদিনই তার রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়েহকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে ফার্স্ট ডিগ্রি হত্যার দুটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা কর্তৃপক্ষ মরণোত্তর ডক্টরেট ডিগ্রি দিয়েছে।

















