তেলের দাম ১৪০ ডলার ছুঁতে পারে: ইরানি স্পিকার

ইরানের তেলকূপগুলো ‘বিস্ফোরিত’ হওয়া নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া ভবিষ্যৎবাণীকে হাস্যকর বলে উড়িয়ে দিয়েছেন দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তিনি দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই নৌ-অবরোধের ফলে ইরানের ক্ষতি হওয়ার বদলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে, যা শীঘ্রই ১৪০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এবং আল-জাজিরার প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
গত ২৬ এপ্রিল এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, সমুদ্রপথে মার্কিন অবরোধের কারণে ইরানের তেল অবকাঠামোতে ভয়াবহ যান্ত্রিক চাপ সৃষ্টি হবে এবং তিন দিনের মধ্যে দেশটির তেলকূপগুলো একে একে বিস্ফোরিত হতে শুরু করবে।
সেই সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পর গালিবাফ এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক ব্যঙ্গাত্মক পোস্টে লেখেন, “তিন দিন পার হলো, একটি কূপও ফাটেনি। আমরা চাইলে এই সময়সীমা ৩০ দিন পর্যন্ত বাড়িয়ে এখান থেকে সরাসরি সম্প্রচার (লাইভস্ট্রিম) করতে পারি, যাতে বিশ্ববাসী দেখতে পায় আপনাদের দাবি কতটা অসার।”
সাবেক এই সামরিক কমান্ডার ট্রাম্পের শীর্ষ অর্থনৈতিক কর্মকর্তাদের কড়া সমালোচনা করেন। তিনি মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্টের নাম উল্লেখ করে বলেন, “বেসেন্টদের মতো ব্যক্তিদের ভুল পরামর্শে ওয়াশিংটন অর্থনৈতিক চাপের যে তত্ত্বে কাজ করছে, তা হিতে বিপরীত হয়ে তেলের বাজারকে অস্থির করে তুলেছে।”
গালিবাফের মতে, এই ভুল মানসিকতার কারণে তেলের দাম ইতিমধ্যেই ১২০ ডলার ছাড়িয়েছে এবং এটি ১৪০ ডলারের দিকে ধাবিত হচ্ছে। বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আজ বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম বেড়ে ১২৪.৫৪ ডলারে পৌঁছেছে, যা ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ।
হোয়াইট হাউসের লক্ষ্য হলো অবরোধের মাধ্যমে তেহরানকে তেল উৎপাদনে বাধ্য করা অথবা অবকাঠামোগত ক্ষতির মুখে ফেলে আলোচনার টেবিলে আনা। ট্রাম্প এই কৌশলকে সরাসরি বোমাবর্ষণের চেয়ে ‘বেশি কার্যকর’ বলে অভিহিত করেছেন। তবে গালিবাফ স্পষ্ট করেছেন যে, ইরানের তেল মজুত ক্ষমতা এখনো পূর্ণ হয়নি এবং তারা দীর্ঘমেয়াদী চাপ সহ্য করতে প্রস্তুত।
হরমুজ প্রণালীতে নৌ-চলাচল স্বাভাবিকের তুলনায় মাত্র ৫ শতাংশে নেমে আসায় বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা তীব্র হয়েছে। অক্সফোর্ড ইকোনমিক্স সতর্ক করেছে যে, এই অবরোধ অব্যাহত থাকলে তেলের দাম আগস্ট নাগাদ ১৯০ ডলারে গিয়ে ঠেকতে পারে, যা বিশ্বজুড়ে কয়েক কোটি মানুষকে চরম দারিদ্র্যের দিকে ঠেলে দিতে পারে।

















