স্যার গ্যারি সোবার্সের মৃত্যু: নিভে গেল ক্রিকেটের উজ্জ্বল নক্ষত্র

ক্রিকেট ইতিহাসের সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডার এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি ক্রিকেটার স্যার গ্যারি সোবার্স মারা গেছেন। বার্বাডোজে নিজ বাসভবনে ৮৯ বছর বয়সে এই ক্রিকেট নক্ষত্রের জীবনাবসান হয়েছে।
শুক্রবার ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজ আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। তার মৃত্যুতে বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গন শোকাহত।
স্যার গ্যারি সোবার্সের বিদায়ের খবরে বিশ্বজুড়ে খেলোয়াড় ও সমর্থকদের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমেছে। ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ লিখেছে, ‘একটি অসাধারণ ইনিংসের সমাপ্তি ঘটল। আমাদের হৃদয়ে স্যার গারফিল্ড সোবার্স চিরকাল বেঁচে থাকবেন’।
সর্বকালের সেরা ব্যাটার স্যার ডন ব্র্যাডম্যান একবার অকপটে স্বীকার করেছিলেন, ‘আমার দেখা সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডার ক্রিকেটার গ্যারি সোবার্স’।
দুই দশকের অনন্য আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার
১৯৩৬ সালে বার্বাডোজে জন্ম নেওয়া সোবার্স মাত্র ১৭ বছর বয়সে ১৯৫৪ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রাখেন। ১৯৫৪ থেকে ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ২০ বছরের ক্যারিয়ারে তিনি ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে ৯৩টি টেস্ট ম্যাচ খেলেন। যেখানে ৫৭.৭৮ গড়ে তাঁর মোট সংগ্রহ ৮,০৩২ রান।
স্যার গ্যারি সোবার্স টেস্টে ২৬টি সেঞ্চুরি করার পাশাপাশি বল হাতে শিকার করেছেন ২৩৫টি উইকেট। ক্রিকেট ইতিহাসে ৮ হাজার রান ও ২০০ উইকেটের অনন্য ডাবল অর্জনকারী মাত্র দুজন ক্রিকেটারের একজন তিনি। তিনি ৩৯টি টেস্ট ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলকে সফলভাবে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
স্যার গ্যারি সোবার্সের অনন্য কীর্তি
১৯৫৮ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে অপরাজিত ৩৬৫ রানের মহাকাব্যিক ইনিংস খেলেন, যা দীর্ঘ ৩৬ বছর টেস্টে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের বিশ্ব রেকর্ড ছিল। এছাড়াও
১৯৬৮ সালে নটিংহ্যামশায়ারের হয়ে গ্ল্যামারগনের ম্যালকম ন্যাশের ওভারে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ইতিহাসের প্রথম ব্যাটার হিসেবে ৬ বলে ৬টি ছক্কা মারেন।
তিনি ছিলেন ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে বৈচিত্র্যময় বোলার, যিনি একই সাথে বাঁহাতি মিডিয়াম পেস, অর্থোডক্স স্পিন এবং রিস্ট স্পিন (চায়নাম্যান) করতে পারতেন।
অমর এক কিংবদন্তি
উইজডেন ক্রিকেট অ্যালম্যানাক তাকে বিংশ শতাব্দীর সেরা পাঁচ ক্রিকেটারের একজন হিসেবে নির্বাচিত করেছিল। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রতি বছর বর্ষসেরা ক্রিকেটারকে সম্মান জানাতে আইসিসি যে সর্বোচ্চ পুরষ্কার প্রদান করে, তা এই মহানায়কের নামানুসারেই “স্যার গারফিল্ড সোবার্স ট্রফি“ নামে নামকরণ করা হয়েছে। তাঁর এই প্রস্থান বিশ্ব ক্রিকেটের একটি সোনালী যুগের অবসান ঘটাল।
















