স্থানীয় নির্বাচনে নজর এনসিপির, জোটবদ্ধ লড়াইয়ের ইঙ্গিত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ছয়টি আসনে জয় পাওয়ার পর এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনে পূর্ণ নজর দিয়েছে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। তৃণমূলের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি এবং স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন স্তরে নিজেদের অবস্থান জানান দিতে এরই মধ্যে কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছে তরুণদের নেতৃত্বাধীন এই দলটি।
স্থানীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে সারা দেশে পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনে বেশ কিছু সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে এনসিপি। একই সঙ্গে একটি শক্তিশালী নির্বাচন পরিচালনা কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
এনসিপির শীর্ষ নেতারা জানিয়েছেন, আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তারা জোটগতভাবে অংশ নেওয়ার পক্ষে। তবে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে এককভাবে লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিয়েছেন তারা। এলাকাভিত্তিক সম্ভাব্য প্রভাবশালী প্রার্থীদের দলে ভেড়াতে এবং তৃণমূল গোছাতে জোর তৎপরতা চালাচ্ছে দলটি।
এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বলেন, “জনভোগান্তি দূর করতে দ্রুত স্থানীয় সরকারের প্রতিষ্ঠানগুলোতে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের উপস্থিতি জরুরি। জাতীয় নির্বাচনে দেখেছি, ঢাকায় এবং ঢাকার বাইরে ১১ দলীয় জোটের ভোট বেশি। ফলে জোটকে ভাগ করাটা বুদ্ধিমানের কাজ হবে না। এ জন্য সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে আমরা জোটগতভাবে অংশ নিতে চাই।” তিনি আরও জানান, নির্বাচন ঘিরে প্রতিটি এলাকায় পোলিং এজেন্ট তৈরি এবং ওয়ার্ড ভিত্তিক কমিটি দেওয়ার জন্য সম্ভাব্য প্রার্থীদের ইতিমধ্যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আগামী দুই-তিন মাসের মধ্যে তারা উপজেলা পর্যায়ে বড় ধরনের জনসংযোগ কর্মসূচিতে নামবেন।
এদিকে স্থানীয় পর্যায়ে জনসেবার ক্ষেত্রে তৈরি হওয়া বিশাল শূন্যতা পূরণে দ্রুত নির্বাচন দাবি করেছে দলটি। এনসিপির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম বলেন, “আগামী ছয় মাসের মধ্যে বিএনপি সরকার স্থানীয় সরকার নির্বাচন দেবে বলে আমরা আশা করি। তারা যদি এটা না করে, তাহলে আমাদের সংসদ থেকে রাজপথে নেমে এই দাবি হয়তো আদায় করে নিতে হবে। মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে আমরা দেশজুড়ে ব্যাপক গণসংযোগের প্রস্তুতি নিচ্ছি।”
সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ তৈরির ওপর জোর দিয়ে সারজিস আলম একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি উত্থাপন করেন। তিনি বলেন, “আমরা চাই, যারা এই মুহূর্তে সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, তারা যেন কোনোভাবেই স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিতে না পারেন। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশন এবং মাঠ প্রশাসনকে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য জনগণের মাঝে আস্থা তৈরি করতে হবে।”
জাতীয় নির্বাচনের প্রথম সফল অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও চমকপ্রদ ও ভালো ফলের প্রত্যাশা করছে জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা থেকে জন্ম নেওয়া দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।

















