মরক্কোয় ফিফার শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসেছেন ইনফান্তিনো

ফিফা সভাপতি জিয়ানি ইনফান্তিনো বুধবার মরক্কোর রাজধানী রাবাতে ফিফার শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে এক জরুরি বৈঠকে বসেছেন। ফিফার আফ্রিকা আঞ্চলিক কার্যালয়ে এই বৈঠক হবে।
বিশ্বকাপের ২০ শতাংশ বাণিজ্যিক স্বত্ব বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে ৪২০ কোটি ডলারে বিক্রি করার বিতর্কিত পরিকল্পনা বাতিল করার পরও তার ওপর অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক চাপ তীব্র হওয়ায় তিনি এই পদক্ষেপ নিয়েছেন।
ফিফার দ্বিতীয় শীর্ষ এই কর্মকর্তা কর্মীদের কাছে পাঠানো এক অভ্যন্তরীণ মেইলে পুরো ঘটনাটিকে একটি ‘দুঃখজনক ও নিন্দনীয় ঘটনা’ বলে অভিহিত করেছেন।
সাবেক এই আর্সেনাল কোচ স্পষ্ট জানিয়েছেন যে তিনি এই পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন না এবং এটি বাতিল করা ‘একেবারে প্রয়োজনীয় ও প্রশ্নাতীত’ ছিল।
তিনি অভিযোগ করেছেন, এই পরিকল্পনার মাধ্যমে ফিফার প্রশাসনকে প্রতারিত করা হয়েছে এবং এটি ছিল কেবলই একজনের প্রজেক্ট। ইনফান্তিনোর এই বৈশ্বিক কৌশল ও সুশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা ফুটবলকে ‘বন্ধক দেওয়ার চুক্তি’ আখ্যা দিয়ে ইতোমধ্যে পদত্যাগ করেছেন।
এ ঘটনায় ইউরোপীয় ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা ইউয়েফা ইনফান্তিনোর প্রতি আস্থা হারিয়েছে এবং প্রয়োজনে ফিফার বিশ্বকাপসহ অন্যান্য প্রতিযোগিতা বয়কটের হুমকি দিয়েছে। উত্তর আমেরিকা এবং এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনও ইউয়েফার এই শক্ত অবস্থানকে সমর্থন জানিয়েছে।
জর্ডানের ফুটবল প্রধান প্রিন্স আলী বিন হুসেইন ফিফা ও ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে “ব্ল্যাকমেইল” বা ব্ল্যাকমেইলিংয়ের অভিযোগ এনেছেন। তার দাবি, ইনফান্তিনোর পুনর্নির্বাচনে সমর্থন দেওয়ার বিনিময়ে বিশ্বকাপের অর্থ বা সুযোগ-সুবিধা ছাড় দেওয়ার মৌখিক ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল।
আগামী ২০২৭ সালের মার্চ মাসে মরক্কোতেই ফিফার পরবর্তী কংগ্রেস ও সভাপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে বর্তমান কেলেঙ্কারির জেরে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসসহ ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন ইতোমধ্যে ইনফান্তিনোর পুনর্নির্বাচনে দেওয়া সমর্থন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করে নিয়েছে।
বর্তমানে মরক্কো, কাতার, কুয়েত ও আরব আমিরাতের মতো কয়েকটি দেশ ইনফান্তিনোর প্রতি তাদের সমর্থন বজায় রেখেছে। আজকের এই জরুরি বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য হলো ফিফার অভ্যন্তরে নিজের ফাটল ধরা অবস্থানকে মেরামত করা।
ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, ৪৩টি বা তার বেশি সদস্য দেশ লিখিত দাবি জানালে একটি ‘বিশেষ কংগ্রেস’ ডাকতে হবে, যা ইনফান্তিনোকে পদচ্যুত করতে পারে। ইনফান্তিনো এখন যেকোনো মূল্যে সেই পরিস্থিতি এড়াতে এবং আগামী ৭ মাস নিজের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছেন।

















