ব্রাহ্মণবাড়িয়া আলেম-ওলামার শহর দাবি করে সিনেমা প্রদর্শনী বন্ধ!

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে শনিবার (৩০ মে) বিকেল ৩টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে দর্শকপ্রিয় চলচ্চিত্র ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ প্রদর্শনের বর্ণাঢ্য আয়োজন করা হয়েছিল। তবে এই আয়োজন ঘিরে কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র বিরোধিতা শুরু হলে পুরো এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শেষ মুহূর্তে প্রদর্শনী স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছেন আয়োজকরা।
শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফিল্ম সোসাইটির অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া এক জরুরি বিবৃতিতে প্রদর্শনী স্থগিতের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। আয়োজকদের দাবি, বিদ্যালয়ের কক্ষ ব্যবহারের জন্য পূর্বানুমতি নেওয়া হলেও পরবর্তীতে তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের নিরাপত্তা বা কার্যকর সহযোগিতা না পাওয়ায় নির্ধারিত সময়ে প্রদর্শনী আয়োজন করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে ভবিষ্যতে নতুন ভেন্যু ও নতুন তারিখ নির্ধারণ করে চলচ্চিত্রটি প্রদর্শন করা হবে বলে তাঁরা আশ্বস্ত করেছেন।
আয়োজক সংগঠনের সদস্য ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী তওজা খন্দকার জানান, গত ২৫ মে চলচ্চিত্রের পরিচালক তানিম নূরের সঙ্গে আলোচনা করে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ প্রদর্শনের আনুষ্ঠানিক অনুমতি নেওয়া হয়েছিল। এরপর অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলে ভেন্যুর প্রাথমিক সম্মতিও পাওয়া যায়। কিন্তু হঠাৎ করেই কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের সদস্যরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই প্রদর্শনীর বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রচারণা ও উস্কানিমূলক পোস্ট শুরু করলে পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তন ঘটে।
সিনেমার প্রদর্শনীর বিরোধিতা করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের নেতা হাফেজ নাসরুল্লাহ মুয়াজ নিজের ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ‘আলেম-ওলামার শহর’। শহরের ধর্মীয় ও সামাজিক পরিবেশ বজায় রাখতে এই ধরনের সিনেমা প্রদর্শনীর কার্যক্রম বন্ধ হওয়া উচিত। পোস্টে তিনি এই আয়োজন বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপও কামনা করেছিলেন। অন্যদিকে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া হেফাজতে ইসলামের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আলী আজম জানান, বিষয়টি তিনি শুনেছেন, তবে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা না বলে এখনই চূড়ান্ত মন্তব্য করবেন না।
এদিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সিনেমা প্রদর্শনীর অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোসাম্মৎ সাবিনা ইয়াসমিন। তিনি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “বিদ্যালয়ের কয়েকজন প্রাক্তন শিক্ষার্থী এই বিষয়ে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করলেও আমি সিনেমা দেখানোর কোনো অনুমতি দিইনি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভেতরে বাণিজ্যিক বা এভাবে সিনেমা প্রদর্শনের প্রশ্নই ওঠে না।”
তবে কওমি ছাত্রদের এমন বিরোধিতার মুখেও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চলচ্চিত্র সংস্কৃতির চর্চা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফিল্ম সোসাইটির উপদেষ্টা ও শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মোহাঈমিনুল আজবীন। তিনি বলেন, সংস্কৃতিচর্চার পথ এভাবে রুদ্ধ করা ঠিক নয়। তাঁরা সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুতই এর একটি সম্মানজনক সমাধানের পথ খুঁজছেন।

















