বাজেটকে ‘চানাচুর’ বলায় বিরোধী দলের ওপর ক্ষুব্ধ প্রধানমন্ত্রী

সরকারের প্রস্তাবিত নতুন জাতীয় বাজেট নিয়ে জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বিভ্রান্তিকর ও নেতিবাচক মন্তব্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি বলেছেন, খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য প্রণীত এই বাজেটকে যারা ‘চানাচুর’ বা ‘গণবিরোধী’ বলে আখ্যায়িত করছেন, তারা কখনোই জনগণের বন্ধু হতে পারে না।
বুধবার দুপুরে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত চা-বাগানের নারী শ্রমিকদের মাঝে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
বাজেট নিয়ে সমালোচনাকারীদের উদ্দেশে ক্ষুব্ধ কণ্ঠে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই বাজেট জনগণের বাজেট। যে বাজেটের অর্থ বরাদ্দের মাধ্যমে আমরা দেশের সাধারণ মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে চাই, সেই বাজেটকে তারা ‘চানাচুর’-এর সাথে তুলনা করে! যে বাজেটে সাধারণ মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা, কৃষক ভাইদের জন্য কৃষি কার্ড এবং আমাদের সন্তানদের সুশিক্ষার জন্য সর্বোচ্চ বরাদ্দ রাখা হয়েছে, সেই বাজেটকে তারা ‘গণবিরোধী’ বলে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে।”
তিনি আরও যোগ করেন, যারা জনগণের জন্য প্রকৃত রাজনীতি করে না এবং যাদের ওপর জনগণের কোনো আস্থা নেই, তারাই কেবল এই ধরনের জনকল্যাণমুখী কাজের বিরোধিতা করতে পারে।
বিরোধী দলের দেশীয় শিল্প সুরক্ষার পদক্ষেপের সমালোচনার জবাব দিয়ে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশে তৈরি পণ্যের সুরক্ষা দিতে এবং স্থানীয় কারখানা সচল রাখতে সরকার বিদেশ থেকে আমদানিকৃত সমজাতীয় পণ্যের ওপর শুল্ক বৃদ্ধি করেছে। এর ফলে দেশীয় শিল্প যেমন বাঁচবে, তেমনি বেকার যুবকদের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে। কিন্তু এই কল্যাণকর পদক্ষেপটিও বিরোধী দলের কাছে গ্রহণযোগ্য হচ্ছে না, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে সরকারের উন্নয়ন দর্শনের কথা পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের ৪০ লাখ কৃষকের হাতে ‘কৃষক কার্ড’ তুলে দেওয়া হবে। এছাড়া চা-শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে ২ লক্ষ টাকা করে আর্থিক অনুদান ও সন্তানদের জন্য বিশেষ বৃত্তির ব্যবস্থা করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে শ্রমের শক্তিতে রূপান্তরিত করে ২০২৬ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি স্বাবলম্বী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলাই তাঁর সরকারের মূল লক্ষ্য।







