পর্দার ‘থালাপথি’ থেকে জননেতা বিজয়

দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা বিজয়—ভক্তদের কাছে যিনি ‘থালাপতি’ বা সেনাপতি হিসেবে পরিচিত। তবে এই উপাধি এখন আর কেবল সিনেমার পর্দার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং এটি এখন তামিলনাড়ুর বাস্তব রাজনীতির এক নতুন ও শক্তিশালী প্রতীকে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘ অভিনয় জীবন, জনসম্পৃক্ততা আর অন্যায়ের বিরুদ্ধে পর্দার লড়াই বিজয়কে নিয়ে এসেছে রাজনীতির মূল ধারায়।
শৈশবে শিশু শিল্পী হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও বিজয়ের উত্থান ছিল ধারাবাহিক পরিশ্রমের ফসল। তাঁর সিনেমাগুলোতে প্রায়ই দেখা যায় সাধারণ মানুষের প্রতিনিধি হয়ে ক্ষমতার বিরুদ্ধে লড়াই করতে। এই ‘জনপ্রিয় প্রতিরোধের প্রতীক’ ইমেজই তাকে সাধারণ মানুষের মণিকোঠায় স্থান দিয়েছে। বিজয় নিজেই একবার বলেছিলেন, “আমি যা করি, সেটা বিনোদনের জন্য নয় শুধু; মানুষের সঙ্গে সংযোগ তৈরির জন্য।”
রজনীকান্তের অতিমানবিক ইমেজ কিংবা কমল হাসানের বুদ্ধিবৃত্তিক রাজনীতির বাইরে বিজয় বেছে নিয়েছেন সবচেয়ে সরল পথ—জনতার আবেগ ও আত্মিক সংযোগ। তাঁর সিনেমার প্রতিটি সংলাপ ও অবস্থান দর্শকদের মনে বাস্তব রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা তৈরি করেছে। এই দীর্ঘ পথচলারই আনুষ্ঠানিক রূপ হলো তাঁর রাজনৈতিক দল ‘তামিলাগা ভেট্ট্রি কাজগাম’ (TVK)।
দলের ঘোষণার পর প্রথম দিকের জনসভাগুলোতেই দেখা গেছে তরুণ প্রজন্মের উপচে পড়া ভিড়। বিজয়ের একটি উক্তি বর্তমানে বেশ আলোচিত— “পরিবর্তন চাইলে শুধু দেখা নয়, মানুষের পাশে দাঁড়ানোও জরুরি।”
রজনীকান্ত বা কমল হাসান যা করতে পারেননি, বিজয় কি তা করে দেখাতে পারবেন? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিজয় আবেগ এবং সরাসরি যোগাযোগের কৌশলকে মূল শক্তি হিসেবে ব্যবহার করছেন। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের মধ্যে তাঁর প্রভাব তামিলনাড়ুর প্রথাগত রাজনৈতিক কাঠামোকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
তবে এই যাত্রাকে এখনই চূড়ান্ত জয় বলা যাচ্ছে না। বড় পর্দায় অন্যায়ের বিনাশ করা যতটা সহজ, বাস্তব রাজনীতির জটিল সমীকরণ মেলানো তার চেয়ে অনেক বেশি কঠিন। এটি এখন একটি সম্ভাব্য বিজয়ের দ্বারপ্রান্ত, যেখানে বিজয়ের ইমেজ ও রাজনৈতিক দূরদর্শিতার এক অগ্নিপরীক্ষা চলছে।
একজন পর্দার নায়ক কীভাবে বাস্তব জননেতায় রূপান্তরিত হন, বিজয়ের এই সফরই এখন ভারতের রাজনীতির অন্যতম আলোচিত বিষয়। তাঁর এই রাজনৈতিক যাত্রার শেষ দৃশ্য কী হবে, তা হয়তো সময়ই বলে দেবে।

















