নিউজরুমে এআই ব্যবহারের নীতিমালা, প্রয়োগে ঘাটতি

বিশ্বজুড়ে সংবাদমাধ্যমগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর ব্যবহার বাড়লেও এর সঠিক ব্যবস্থাপনা ও প্রাতিষ্ঠানিক নীতিমালার ক্ষেত্রে বড় ধরনের শূন্যতা রয়ে গেছে। সম্প্রতি ‘সেন্টার ফর নিউজ, টেকনোলজি অ্যান্ড ইনোভেশন’ (CNTI)-এর এআই ও জার্নালিজম রিসার্চ ওয়ার্কিং গ্রুপের এক গবেষণা প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
৩০টি সাম্প্রতিক গবেষণাপত্র বিশ্লেষণ করে তৈরি করা এই ব্রিফিংয়ে বলা হয়েছে, অধিকাংশ নিউজবুমের নীতিমালা কেবল তাত্ত্বিক আদর্শের ওপর ভিত্তি করে তৈরি, যা বাস্তব কর্মক্ষেত্রে খুব একটা কার্যকর নয়।
গবেষণায় দেখা গেছে, ২০২৪ সালের শেষ নাগাদ গ্লোবাল সাউথ বা উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রায় ৮০ শতাংশ নিউজকক্ষে কোনো আনুষ্ঠানিক এআই নীতিমালা ছিল না। যেসব প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা রয়েছে, তারা মূলত স্বচ্ছতা, মানুষের তত্ত্বাবধান এবং তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের ওপর জোর দিচ্ছে। তবে ‘যথাযথ ব্যবহার’ বলতে ঠিক কী বোঝায়, তার কোনো সুনির্দিষ্ট বা ব্যবহারিক গাইডলাইন অধিকাংশ নীতিমালায় অনুপস্থিত।
গবেষকরা সতর্ক করেছেন যে, সংবাদমাধ্যমগুলো গুগল, মাইক্রোসফট বা অ্যামাজনের মতো বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের তৈরি এআই টুলের ওপর ক্রমেই নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। এই থার্ড-পার্টি টুলগুলোর অ্যালগরিদম সংবাদপত্রের সম্পাদকীয় সিদ্ধান্তে অজান্তেই প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে অনুবাদ বা তথ্য বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে এই টুলগুলো অনেক সময় লিঙ্গবৈষম্য বা সূক্ষ্ম পক্ষপাতিত্ব তৈরি করে, যা শনাক্ত করা সাধারণ সাংবাদিকদের পক্ষে কঠিন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এআই প্রযুক্তি কেনার ক্ষেত্রে বা ‘প্রকিউরমেন্ট’ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে। ২০২৫ সালের একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, অধিকাংশ এআই ডেভেলপার কোম্পানি কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই তাদের সেবার শর্তাবলী পরিবর্তনের ক্ষমতা রাখে, যা সংবাদমাধ্যমের গোপনীয়তা ও সম্পাদকীয় স্বাধীনতার জন্য হুমকিস্বরূপ।
গবেষণা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নীতিমালা কেবল কাগজে লিখে রাখলে চলবে না, তা প্রতিদিনের কাজের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। মেক্সিকোর ‘লা সিলা রোটা’-র মতো প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের সাংবাদিকদের জন্য নিজস্ব ‘কাস্টম জিপিটি’ তৈরি করেছে, যা তাৎক্ষণিকভাবে এআই ব্যবহারের নিয়মকানুন বাতলে দেয়। প্রতিবেদনে আরও বেশি অংশীজন এবং প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত করে যুগোপযোগী নীতিমালা তৈরির তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
মুহূর্ত/এমএইচ

















