ধারলা-ওলগা-থিও খুঁজে বের করলো পর্যটকদের অবৈধ পণ্য

বাংলাদেশ থেকে কানাডায় যাওয়া তিন পর্যটকের ব্যাগ থেকে বিপুল পরিমাণ অবৈধ খাদ্যসামগ্রী খুঁজে বের করেছে কানাডা বর্ডার সার্ভিস এজেন্সির (সিবিএসএ) তিনটি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত গোয়েন্দা কুকুর— ধারলা, ওলগা এবং থিও। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে এই পণ্যগুলো বহন করায় ওই তিন যাত্রীকে ১ হাজার ৩০০ কানাডিয়ান ডলার জরিমানা করা হয়েছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার সমান।
কানাডার প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘টরেন্টো সান’ এক প্রতিবেদনে এই খবর নিশ্চিত করেছে।
সিবিএসএ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানায়, চলতি মে মাসে বাংলাদেশ থেকে টরেন্টো পিয়ারসন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানো একটি ফ্লাইটের তিন যাত্রীর আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে তল্লাশি চালানো হয়। সেখানে দায়িত্বরত কে-৯ (K9) ইউনিটের তিন চৌকস কুকুর ধারলা, ওলগা এবং থিও তাদের তীক্ষ্ণ ঘ্রাণশক্তির মাধ্যমে পর্যটকদের ব্যাগে থাকা অবৈধ পণ্যগুলো শনাক্ত করে।
পরবর্তীতে ব্যাগ খুলে মোট ৪৫ কেজি ওজনের অঘোষিত মাংস, দুগ্ধজাত পণ্য ও শাকসবজি জব্দ করা হয়। সিবিএসএ একটি ছবিও প্রকাশ করেছে, যেখানে টেবিলে সাজিয়ে রাখা বিপুল পরিমাণ জব্দকৃত পণ্যের পাশে বিজয়ী ভঙ্গিতে বসে থাকতে দেখা গেছে এই তিন চারপেয়ে গোয়েন্দাকে।
কানাডার কঠোর জৈব-নিরাপত্তা (Biosecurity) আইন অনুযায়ী, যেকোনো দেশ থেকে আসা নাগরিক, প্রবাসী বা পর্যটকদের সাথে থাকা সমস্ত খাবার, উদ্ভিদ এবং প্রাণিজাত পণ্যের ঘোষণা (Declare) দেওয়া বাধ্যতামূলক। কাঁচা বা রান্না করা মাংস, দুধ, মাখন, পনির, ডিম, মাছ, শাকসবজি এবং পশুর চামড়ার মতো পণ্য সাথে থাকলে তা বিমানবন্দরে প্রবেশের আগেই ফর্মে উল্লেখ করতে হয়।
তথ্য গোপন করে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এসব নিষিদ্ধ পণ্য বহনের দায়ে ওই তিন পর্যটককে এই বড় অঙ্কের জরিমানা গুনতে হলো। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ আবারও স্মরণ করিয়ে দিয়েছে, কানাডায় প্রবেশের সময় খাবার সঙ্গে থাকলে তা অবশ্যই কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে, অন্যথায় পণ্য বাজেয়াপ্তসহ কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।

















