সময়ের জনমাধ্যম

জিদানকে নিয়ে মন্তব্যে, ফ্রান্স ফুটবল ফেডারেশন সভাপতি গ্রেতের অপসারণ

শেষ রক্ষা হল না ফ্রান্স ফুটবল ফেডারেশনের (এফএফএফ) সভাপতি নোয়েল লা গ্রেতের। জিনেদিন জিদানকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের পর চাপের মুখে ক্ষমা চাইলেও, শেষ পর্যন্ত দায়িত্ব থেকে অপসারণ করা হয়েছে তাকে। খবর-রয়টার্সের।

বুধবার প্যারিসে এফএফএফ এর প্রধান কার্যালয়ে বোর্ডের নির্বাহী কমিটির বৈঠকের পর ফেডারেশন এক বিবৃতিতে জানায়, গ্রেতের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগের তদন্ত করবে ফ্রান্সের ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অডিট কমিশন। বোর্ডের পক্ষ থেকেও বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে গ্রেতের পদত্যাগের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে। মধ্যবর্তী এই সময়ে লা গ্রেতের পরিবর্তে অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্টের দায়িত্বে থাকবেন বোর্ডের ভাইস-প্রেসিডেন্ট ফিলিপে দিয়ালোকে।

মন্তব্যের বিষয়টির সূত্রপাত হয় ফ্রান্সের আরএমসি রেডিওতে সাক্ষাৎকারে দিদিয়ের দেশমের চুক্তি নবায়নকে ঘিরে। ২০২৬ সাল পর্যন্ত ফ্রান্সের কোচ থাকছেন তিনি। বিশ্বকাপের পর জিদানের কোচ হওয়ার গুঞ্জন ছিল অনেক বেশি, যদিও জিদানের এখন ব্রাজিলের কোচ হওয়ার গুঞ্জন চলছে। এই বিষয় নিয়েই বিরূপ মন্তব্য করেন লা গ্রেত।

আরএমসি রেডিও সাক্ষাতকারে এ প্রসঙ্গে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, ‘জিদানের যা ইচ্ছা করতে পারে। আমি পরোয়া করি না। তার সঙ্গে আমার কখনও দেখা হয়নি। দেশমের দায়িত্ব ছিন্ন করার কথা আমরা কখনও ভাবিনি। জিদান যেখানে ইচ্ছা যেতে পারে, কোনো ক্লাবে বা যে কোনো জায়গায়। জিদানের পক্ষ থেকে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছিল কি না, এই প্রশ্নে লু গ্রেত ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, ‘জিদান আমার সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেনি। চেষ্টা করলেও আমি তার ফোন ধরতাম না।’

ফ্রান্সের ফুটবল ইতিহাসে জিনেদিন জিদান এক অনন্য নাম। ফুটবল ইতিহাসে তার নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে, এটা কারও অজানা নয়। দেশটিকে ১৯৯৮ বিশ্বকাপ ও ২০০০ ইউরো জয়ে বড় অবদান রেখেছিলেন তিনি। অথচ সেই জিদানকেই এভাবে অসম্মান করায় তোপের মুখে পড়েন ফ্রান্স ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি। দেশটির ক্রীড়ামন্ত্রী থেকে শুরু করে রাজনীতিবিদ সবাই লা গ্রেতের সমালোচনা করেছেন।

জিদানকে অপমান করায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান ফ্রান্সকে বিশ্বকাপের ফাইনালে তোলা তরুণ পিএসজি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে। কাতার বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুটজয়ী বলেন, ‘জিদানই ফ্রান্স। তার মতো একজন কিংবদন্তিকে আমরা এভাবে অসম্মান করতে পারি না।’ এমনকি বিবৃতি দিয়ে জিদানের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দেয় রিয়াল মাদ্রিদ।

চারদিক এতো সমালোচনার কারণে গ্রেত বলেন ‘আমি আমার মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চাইছি। এতে আমার দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন ছিল না, কোচ ও খেলোয়াড় নিয়ে বিবেচনাও ছিল না। আসলে আরএমসি দুই সেরা খেলোয়াড়ের মধ্যে বিতর্ক তৈরি করতে চেয়েছিল। আমার তাদেরকে সাক্ষাতকার দেওয়াই ভুল হয়েছে।’