জার্মানিতে তীব্র তাপমাত্রা, পানিতে ডুবে বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল

ইউরোপজুড়ে চলমান তীব্র জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে জার্মানিতে রেকর্ড তাপমাত্রা ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। দেশটির জাতীয় জীবনরক্ষা সংস্থা এবং স্থানীয় পুলিশের তথ্য বলছে, সাম্প্রতিক তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে শরীর ঠান্ডা করতে নদী, হ্রদ ও বিভিন্ন উন্মুক্ত জলাশয়ে সাঁতার কাটতে গিয়ে অন্তত ৩০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য পরিচিত জার্মানিতে একসঙ্গে পানিতে ডুবে এত মানুষের মৃত্যুর ঘটনাকে অত্যন্ত বিরল ও নজিরবিহীন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মৃত্যুর পরিসংখ্যান ও ভুক্তভোগীদের পরিচয়
গত শুক্রবার থেকে রোববার পর্যন্ত মাত্র তিন দিনের সাপ্তাহিক ছুটিতেই অন্তত ২৬ জন পানিতে ডুবে মারা গেছেন বা নিখোঁজ হয়েছেন। এর আগের দিন বৃহস্পতিবারও পৃথক ৭টি প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন পুরুষরা। ছুটির দিনগুলোতে পানিতে ডুবে মারা যাওয়া বা নিখোঁজ হওয়া ব্যক্তিদের প্রায় সবাই পুরুষ এবং কিশোর। নিডারজ্যাক্সেন রাজ্যের পাইনে শহরের একটি হ্রদ থেকে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোর এবং নর্থ রাইন-ওয়েস্টফালিয়ার এখৎস হ্রদ থেকে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
জার্মানির ইতিহাসে জুনের শেষভাগে তাপমাত্রা সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। দেশের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ব্র্যান্ডেনবার্গে সর্বোচ্চ ৪১.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে, যা জার্মানির সর্বকালের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। এই চরম গরমে জনজীবন ওষ্ঠাগত হয়ে ওঠায় সাধারণ মানুষ দলে দলে নদী, হ্রদ, খনি অঞ্চলের পরিত্যক্ত কোয়ারি লেক এবং বাল্টিক সাগরের পানিতে ভিড় করতে শুরু করে।
দুর্ঘটনার কারণ ও বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা
ডিএলআরজি এর সভাপতি উটে ফগ্ট জানান, মূলত অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস এবং অসাবধানতার কারণেই এই বিপর্যয় ঘটেছে। বিশেষ করে পুরুষরা নিজেদের শারীরিক সক্ষমতাকে অতিরিক্ত মূল্যায়ন করে অপ্রস্তুত অবস্থায় গভীর পানিতে নেমে পড়েন।
বাইরের তীব্র গরম বাতাসের তুলনায় গভীর নদী বা হ্রদের পানি অনেক বেশি ঠান্ডা থাকে। হঠাৎ এই ঠান্ডা পানিতে লাফ দিলে মানবদেহ ‘কোল্ড ওয়াটার শক’ বা সাময়িক পক্ষাঘাতের শিকার হতে পারে। বেশিরভাগ দুর্ঘটনাই ঘটেছে এমন সব নদী বা হ্রদে, যেখানে কোনো লাইফগার্ড বা উদ্ধারকারী দল মোতায়েন ছিল না।
জার্মান আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, তীব্র গরমের পর বার্লিনসহ দেশের বিভিন্ন অংশে বজ্রঝড় ও আকস্মিক ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হওয়ায় তাপমাত্রা কিছুটা কমতে শুরু করেছে। তবে ঝুঁকিপূর্ণ জলাশয়গুলোতে বিনা প্রস্তুতিতে নামার ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসন এখনো কঠোর সতর্কতা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছে।







