খুলনায় মসজিদে ঢুকে দুই মুসল্লিকে গুলি, এলাকায় চরম আতঙ্ক

খুলনা মহানগরীর দৌলতপুর থানা এলাকার ওজোপাডিকো বিদ্যুৎ জামে মসজিদে ঢুকে নামাজ ও কুরআন তেলাওয়াত রত অবস্থায় দুই মুসল্লিকে গুলি করেছে দুর্বৃত্তরা। রোববার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে বিএল কলেজ রোডের ওই মসজিদে এই নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে।
গুলিবিদ্ধরা হলেন— মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী লোকমান হাকিম এবং কাপড় ব্যবসায়ী আলম মণ্ডল। ঘটনার পর লোকমান হাকিম নিজের মোবাইল দিয়ে ফোন করে পরিবারকে বিষয়টি জানালে তারা এসে গুলিবিদ্ধদের উদ্ধার করেন। লোকমান হাকিমের শরীরে তিনটি এবং আলম মণ্ডলের শরীরে একটি গুলি লেগেছে বলে পুলিশের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।
মসজিদের ইমাম ও স্থানীয় মুসল্লিরা জানান, প্রতিদিনের মতোই মসজিদে ফজরের নামাজ আদায় শেষে কুরআন তেলাওয়াত ও জিকির করছিলেন মুসল্লিরা। ইমাম নামাজ শেষ করে বাসায় যাওয়ার পরপরই দুর্বৃত্তরা মসজিদের ভেতরে প্রবেশ করে লোকমান হাকিমকে উদ্দেশ করে গুলি চালায়। এ সময় পাশে থাকা আলম মণ্ডলও গুলিবিদ্ধ হন।
আহতদের মধ্যে ওজোপাডিকোর ঠিকাদারি ও তেল ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ী লোকমান হাকিমকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং আলম মণ্ডলকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এই নজিরবিহীন ঘটনায় সাধারণ মানুষ ও মুসল্লিদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ৫৬ বছর বয়সী এক মুসল্লি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জীবনে কখনো মসজিদের ভেতর এমন অপ্রীতিকর ও মর্মান্তিক ঘটনা দেখেননি বা শোনেননি।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ব্যবসায়ী লোকমান হাকিমের ওপর এর আগেও একবার গুলির চেষ্টা করা হয়েছিল, তবে সেবার আগ্নেয়াস্ত্র থেকে গুলি বের না হওয়ায় তিনি বেঁচে যান। সম্প্রতি খুলনা থেকে বদলি হওয়া আলোচিত এক পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গেও তার সুসম্পর্ক ছিল।
পুলিশ ধারণা করছে, তেল ব্যবসা কিংবা ওজোপাডিকোর ঠিকাদারি ব্যবসা সংক্রান্ত কোনো দ্বন্দ্বের জেরে এই হামলা হয়ে থাকতে পারে। ইতোমধ্যে লোকমান হাকিমের ফোন থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছে পুলিশ, যা তদন্তের স্বার্থে এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না।
কেএমপির ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (নর্থ) সুদর্শন কুমার রায় জানান, মসজিদের ভেতর প্রবেশ করে মুসল্লিদের ওপর গুলির ঘটনা তদন্তে পুলিশের কয়েকটি টিম কাজ করছে। ইতোমধ্যে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ ও কিছু ডিজিটাল এভিডেন্স সংগ্রহ করা হয়েছে।
লোকমান হাকিমের তেলের ডিপোর এজেন্সি ও ঠিকাদারি ব্যবসা নিয়ে কোনো ব্যবসায়িক বা পারিবারিক শত্রুতা আছে কিনা—সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অপরাধীদের অতি দ্রুত আটকে পুলিশের চিরুনি অভিযান চলছে, তবে এখন পর্যন্ত এই ঘটনায় জড়িত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

















