আমি হারিনি, আমি পদত্যাগ করব না: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) কাছে বড় ব্যবধানে হারের পর এক বিস্ফোরক সংবাদ সম্মেলনে নিজের অনড় অবস্থানের কথা জানিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
মঙ্গলবার (৫ মে) বিকেলে কলকাতার কালীঘাটে নিজ বাসভবনে আয়োজিত সম্মেলনে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি এখনই মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগ করছেন না।
সংবাদ সম্মেলনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচনের ফলাফলকে ‘জনমতের প্রতিফলন নয়’ বরং ‘বড় ধরনের ষড়যন্ত্র’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, “কেন পদত্যাগ করব? আমরা তো হারিনি। জোর করে ভোট লুট করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন এখানে একটি কালো ইতিহাস তৈরি করেছে।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় ১০০টিরও বেশি আসন লুট করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনকে ‘ভিলেন’ উল্লেখ করে মমতা বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সরাসরি এই ভোট চুরির প্রক্রিয়ায় জড়িত ছিলেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “গণতন্ত্র কোথায় যাবে? আমি হারিনি, আমি পদত্যাগ করব না। সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী যা করার করতে পারে।”
উল্লেখ্য, এবারের নির্বাচনে ২৯৩টি আসনের মধ্যে বিজেপি ২০৭টি আসনে জয় পেয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে, যা পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির প্রথম সরকার গঠনের পথ প্রশস্ত করেছে। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস মাত্র ৮০টি আসনে থিতু হয়েছে। খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তার দীর্ঘদিনের দুর্গ ভবানীপুর আসনে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ১৫ হাজার ১১৪ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন।
নিজ কেন্দ্রে হার এবং দলের শোচনীয় পরাজয় সত্ত্বেও মমতা নিজেকে ‘মুক্ত বিহঙ্গ’ হিসেবে দাবি করে বলেন, তিনি এখন সাধারণ মানুষের পাশে থেকে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের শক্তি বৃদ্ধিতে কাজ করবেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মমতার এই পদত্যাগ না করার ঘোষণা রাজ্যে একটি বড় ধরনের সাংবিধানিক সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে, কারণ সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে বিজেপি আগামী ৯ মে শপথ গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

















