স্বামী প্রাণ দিলেন বাসের চাকায়, এক মাসেও খোঁজ নিলেন না মালিক!

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পদ্মা নদীতে বাসডুবির সেই ভয়াবহ ঘটনার এক মাস পেরিয়ে গেলেও থামেনি নিহত চালক আরমানের পরিবারের কান্না। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে দুই শিশু কন্যা এবং গর্ভের সন্তানকে নিয়ে এখন অথৈ সাগরে পড়েছেন আরমানের তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী লাবনী। অথচ যার বাস চালিয়ে আরমান প্রাণ দিলেন, সেই মালিক এক মাসেও পরিবারটির কোনো খোঁজ নেননি বলে অভিযোগ উঠেছে।
নিহত আরমান খান (৩১) রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের শহীদনগর খালকুলা গ্রামের আরব খানের ছেলে। তিনি ‘সৌহার্দ্য পরিবহনের’ চালক ছিলেন। গত ২৫ মার্চ দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাটে পন্টুন থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি নদীতে পড়ে গেলে চালকসহ ২৬ জন প্রাণ হারান।
আরমানের নিজস্ব কোনো জমি নেই, সরকারি জমিতে ঘর তুলে বসবাস করতেন। তার আয়েই চলত পুরো পরিবার। আরমানের অকাল মৃত্যুতে ১০ বছর বয়সী আমেনা ও ৫ বছর বয়সী তাইবাকে নিয়ে লাবনী যখন দিশেহারা, তখন কিছু মানবিক মানুষ সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। জেলা প্রশাসন থেকে ২৫ হাজার টাকা এবং কানাডাপ্রবাসী এক বাঙালির পাঠানো ৮৮ হাজার টাকায় আরমানের ব্যাংক ঋণ পরিশোধ ও জরুরি কিছু খরচ মেটানো সম্ভব হয়েছে। স্থানীয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সবুজ মিয়ার মাধ্যমে এই প্রবাসীর সহায়তা পরিবারটির হাতে পৌঁছায়।
তবে সহায়তার মধ্যেও ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন লাবনী। তিনি বলেন, “বিদেশে থাকা মহৎ মানুষটি আমাদের ঋণ শোধের ব্যবস্থা করেছেন, কিন্তু সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হলো আমার স্বামী যে বাসটি চালাতেন, সেই বাসের মালিক আজ পর্যন্ত আমাদের দেখতেও আসেননি, কোনো খোঁজও নেননি। আমার ছোট দুটি মেয়ে আর গর্ভের সন্তানকে নিয়ে আগামী দিনগুলোতে কীভাবে চলব, তা জানি না।”
এ বিষয়ে সৌহার্দ্য পরিবহনের মালিক আক্তারুজ্জামান হাসান জানান, বিশেষ কারণে তিনি নিজে সশরীরে যেতে পারেননি। তবে পরিবহনের ফোরম্যান ও অন্য চালকরা গিয়ে খোঁজখবর নিয়েছেন এবং দোয়া মাহফিলে অংশ নিয়েছেন। পরিবারের বিষয়টি তারা পরবর্তীতে দেখবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।
বর্তমানে হাতে থাকা সামান্য কিছু টাকা শেষ হয়ে গেলে তিন সন্তানকে নিয়ে কীভাবে জীবন কাটবে, সেই চিন্তায় কাটছে লাবনীর দিন। নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাস চালিয়ে মালিকের সম্পদ রক্ষা ও যাত্রীসেবা দিলেও, বিপদের দিনে মালিকপক্ষের এমন উদাসীনতায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় সচেতন মহল।

















