স্পেনে বৈধ হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন পাঁচ লাখ অভিবাসী

স্পেন সরকার দেশটিতে বৈধ কাগজপত্রবিহীন অভিবাসীদের জন্য একটি ‘সাধারণ ক্ষমা’ কর্মসূচি অনুমোদন করেছে। ফলে দেশটিতে অবস্থানরত প্রায় পাঁচ লাখ অবৈধ অভিবাসী আইনি স্বীকৃতির জন্য আবেদন করতে পারবেন।
প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের সরকার মঙ্গলবার এ কর্মসূচি অনুমোদন করেছে। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।
স্পেনসহ বিশ্বের বিভিন্ন অংশে মানুষের মধ্যে অভিবাসনবিরোধী মনোভাব ক্রমেই বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে স্পেন সরকারের এমন উদ্যোগ দেশটির ব্যতিক্রমী অবস্থান সামনে এনেছে।
দেশটির সরকারের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন সেখানে বসবাসরত বাংলাদেশি অভিবাসীরা। মঙ্গলবার আল-জাজিরায় প্রকাশিত এক ভিডিওতে বার্সেলোনায় বাংলাদেশি অভিবাসীদের উল্লাস করতে দেখা যায়। বৈধ হওয়ার সুযোগ তৈরি করায় তারা প্রধানমন্ত্রী সানচেজকে ধন্যবাদ জানান।
মুরুল ওয়াইদ নামের বাংলাদেশি একজন অভিবাসী আল-জাজিরাকে বলেন, এখানে কাজ নেই, থাকার ঘর নেই। এখানে জীবনযাপন খুবই কঠিন। তাই এখন বৈধ হওয়ার প্রক্রিয়া শুরুর খবরে সবাই খুবই খুশি।
সানচেজ সরকারের এ উদ্যোগ স্পেনে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের বিরোধিতা উসকে দিয়েছে। এমনকি দেশটির সরকারি কর্মকর্তারাও এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, তারা এ পরিস্থিতি সামাল দিতে পারবেন না।
অভিবাসন আইন সংশোধনের ডিক্রি জারির মাধ্যমে সানচেজ সরকার দ্রুততার সঙ্গে এ উদ্যোগ নিয়েছে। ফলে দেশটির বামপন্থী সরকারের আইনসভাকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। আইনসভায় স্পেনের বর্তমান সরকারের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই। এর আগে দেশটির আইনসভায় ‘সাধারণ ক্ষমা’ ঘোষণার একটি বিল পাসের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছিল।
নতুন কর্মসূচিতে বলা হয়েছে, নথিহীন অভিবাসীদের মধ্যে যারা সুনির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে পারবেন, তারা এক বছরের জন্য স্পেনে বসবাস আর কাজের অনুমতির জন্য আবেদন করার সুযোগ পাবেন।
স্পেনের অভিভাসনবিষয়ক মন্ত্রী এলমা সাইজ বলেন, বৃহস্পতিবার থেকে অনলাইনে আবেদনের প্রক্রিয়া শুরু হবে। আর ২০ এপ্রিল থেকে সশরীর আবেদন করা যাবে। চলবে ৩০ জুন পর্যন্ত।
আবেদনের জন্য বেশ কিছু শর্ত দেওয়া হয়েছে। সেগুলো হলো আবেদনকারীকে অবশ্যই ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারির আগে স্পেনে প্রবেশ করতে হবে। কমপক্ষে পাঁচ মাস দেশটিতে বসবাস করার প্রমাণ দেখাতে হবে। আবেদনকারীর নামে অপরাধের কোনো রেকর্ড থাকা যাবে না। যাদের এই সাময়িক আবেদন মঞ্জুর হবে, তারা এক বছর পর গিয়ে স্পেনে স্থায়ী বসবাস ও অন্যান্য কাজের অনুমতির জন্য আবেদনের ক্ষেত্রে যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।
স্পেনের জনমিতিতে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বাড়তির দিকে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সানচেজ এ সমস্যার মোকাবিলায় অভিবাসীদের কাজে লাগাতে চাইছেন। তার মতে, এ পদক্ষেপ একটি ‘ন্যায়সংগত ও প্রয়োজনীয়’ কাজ।
তবে স্পেনের বিরোধী দল পিপলস পার্টির নেতা আলবার্তো নেজ ফেইহো এটিকে ‘অমানবিক, অন্যায্য, অনিরাপদ এবং অ-টেকসই’ একটি পদক্ষেপ বলে মন্তব্য করেছেন। যদিও মধ্য ডানপন্থী পিপলস পার্টি চলতি শতকের গোড়ার দিকে ক্ষমতায় থাকার সময় দুবার এমন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করেছিল।
সানচেজ সরকারের হিসাবে, নতুন এ কর্মসূচির আওতায় প্রায় পাঁচ লাখ নথিহীন অভিবাসী বৈধ হওয়ার সুযোগ পাবেন। সংখ্যাটি আরও বাড়তে পারে।

















