শত্রুদের থেকে ক্ষতিপূরণ নেওয়া হবে, হামলা অব্যাহত থাকবে: মোজতবা খামেনি

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর নিজের প্রথম আনুষ্ঠানিক বার্তায় মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত শত্রুঘাঁটিগুলোতে হামলা অব্যাহত রাখার কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি এই অঞ্চলের সমস্ত মার্কিন ঘাঁটি বন্ধ করার পরামর্শ দিয়ে স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “শত্রুদের থেকে ক্ষতিপূরণ নেওয়া হবে, তবে হামলা অব্যাহত থাকবে।”
চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপট টেনে তিনি জানান, ইরানের ওপর হওয়া প্রতিটি ক্ষতির জন্য শত্রুদের চড়া মূল্য দিতে হবে। যদি তারা স্বেচ্ছায় ক্ষতিপূরণ দিতে অস্বীকৃতি জানায়, তবে ইরানের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাদের সম্পদ থেকেই সেই পাওনা উসুল করে নেওয়া হবে। আর সেটিও সম্ভব না হলে, সমপরিমাণ পাল্টা ক্ষতি করার মাধ্যমে প্রতিশোধ নেওয়া হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রসঙ্গে মোজতবা খামেনি বলেন, ইরান তার ১৫টি প্রতিবেশী দেশের সঙ্গেই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী। তবে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন যে, কিছু প্রতিবেশী দেশে শত্রু পক্ষ সামরিক ও আর্থিক ঘাঁটি স্থাপন করেছে এবং সাম্প্রতিক আক্রমণে সেই ঘাঁটিগুলো ব্যবহৃত হয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরান কোনো নির্দিষ্ট দেশকে আক্রমণ করতে চায় না, বরং কেবল শত্রুঘাঁটিগুলোকেই লক্ষ্যবস্তু করেছে। প্রতিবেশী দেশগুলোকে তাদের অবস্থান পরিষ্কার করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যত দ্রুত সম্ভব ওই ঘাঁটিগুলো বন্ধ করা উচিত; কারণ শান্তি ও নিরাপত্তার বিষয়ে আমেরিকার প্রতিশ্রুতি একটি নিছক মিথ্যা ছাড়া আর কিছুই নয়।
দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি ও জনগণের সহযোগিতা কামনায় মোজতবা খামেনি উল্লেখ করেন যে, জনগণের শক্তির উপস্থিতি ছাড়া রাষ্ট্র বা নেতৃত্বের কোনো প্রতিষ্ঠানই কার্যকরভাবে কাজ করতে পারবে না। তিনি মনে করেন, জনগণের সেবা নিশ্চিত করতে হলে সাধারণ মানুষের সক্রিয় সমর্থন অপরিহার্য। শত্রু মোকাবিলায় অটল থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি তাঁর বার্তায় পরিষ্কার করে দেন যে, মাতৃভূমির ওপর আক্রমণকারী এবং জনগণের হত্যাকারীদের ব্যাপারে ইরান কোনো আপস করবে না এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

















