রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির ১৩ বছর: ঝুলে আছে ১০ মামলা

সাভারের রানা প্লাজা ভবন ধসের সেই ভয়াবহ ঘটনার ১৩ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও শেষ হয়নি কোনো মামলার বিচার। এমন পরিস্থিতিতে মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি, হতাহতদের ন্যায্য ক্ষতিপূরণ এবং স্থায়ী পুনর্বাসন নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন আইনজীবী, শ্রমিক নেতা ও বিশিষ্টজনেরা।
বৃহস্পতিবার (২৪ এপ্রিল) জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট) আয়োজিত ‘রানা প্লাজা ভবন ধস: বিচারের দীর্ঘসূত্রিতা ও ক্ষতিগ্রস্তদের অধিকার’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় এসব দাবি জানানো হয়।
মতবিনিময় সভায় জানানো হয়, ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিলের ওই ঘটনায় ১ হাজার ১৩৬ জন শ্রমিক নিহত এবং ২ হাজার ৪৩৮ জন আহত হন। এ ঘটনায় নিম্ন আদালতে ১০টি মামলা এবং উচ্চ আদালতে ৪টি রিট করা হলেও গত ১৩ বছরে কোনোটিরই বিচার কাজ শেষ হয়নি।
সিনিয়র আইনজীবী ও ব্লাস্টের নির্বাহী পরিচালক ব্যারিস্টার সারা হোসেন বলেন, “উচ্চ আদালতে ৫টি রিট ও নিম্ন আদালতে ১০টি মামলা বিচারাধীন। বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত করতে এসব মামলাকে ‘ব্যতিক্রমী’ হিসেবে দেখতে হবে। ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের মাধ্যমে আমরা বুঝেছি বিচার পাওয়া কতটা কঠিন। তাই শ্রম আইন সংশোধন করে সংবিধানের আলোকে ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করা এখন সময়ের দাবি।”
ঢাকা জেলা ও দায়রা আদালতের অতিরিক্ত পিপি ফয়সাল মাহমুদ মামলার ধীরগতির কারণ হিসেবে সাক্ষীদের আদালতে অনুপস্থিতিকে দায়ী করেন। তিনি জানান, মোট সাক্ষী ৫৯৪ জন, যার মধ্যে এখন পর্যন্ত ১৪৫ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তাদের সাক্ষী করা হলেও তাদের আদালতে হাজির করতে পুলিশের গাফলতি দেখা গেছে। তবে বর্তমান সময়ে সাক্ষ্য গ্রহণের হার বেড়েছে এবং আশা করা যাচ্ছে চলতি বছরের মধ্যেই দণ্ডবিধির মামলার নিষ্পত্তি হবে। আগামী ৩০ এপ্রিল মামলার পরবর্তী তারিখ ধার্য রয়েছে।
ব্লাস্টের পরিচালক বরকত আলীর সঞ্চালনায় সভায় সিফাত-ই নুর খানম দ্রুত বিচার ও জুরাইন কবরস্থানে স্থায়ী স্মৃতিফলক নির্মাণের দাবি জানান। বিলস-এর নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহম্মদ ক্ষতিগ্রস্তদের আজীবন বিশেষায়িত চিকিৎসা ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার তাগিদ দেন।
বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতির প্রধান তাসলিমা আখতার বলেন, শিল্পের প্রবৃদ্ধি হলেও শ্রমিকরা আজও বঞ্চিত। ক্ষতিপূরণ পাওয়া শ্রমিকদের আইনি অধিকার, দয়া নয়।
সভায় উত্থাপিত প্রধান সুপারিশসমূহ:
১. প্রতিদিন শুনানির মাধ্যমে মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি করা।
২. আইনজীবী, ট্রেড ইউনিয়ন ও গণমাধ্যমের সমন্বয়ে একটি বিশেষ টিম গঠন করা।
৩. শ্রম আইন সংশোধন করে ক্ষতিপূরণের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড নির্ধারণ।
৪. সাভার ও জুরাইনে স্থায়ী স্মৃতিফলক নির্মাণ এবং টেকসই পুনর্বাসন নিশ্চিত করা।
কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের যুগ্ম মহাপরিদর্শক মাহফুজুর রহমান ভুঁইয়া আশ্বস্ত করেন যে, শ্রম আদালতে চলমান মামলাগুলোতে তাদের অধিদপ্তরের প্রতিনিধির উপস্থিতি নিশ্চিত করা হবে।

















