যুক্তরাষ্ট্রে নয় মেক্সিকোতে খেলতে চায় ইরান

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হতে বাকি আর মাত্র কয়েক মাস। কিন্তু এর মধ্যেই রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা ইস্যুতে টুর্নামেন্ট ঘিরে তৈরি হয়েছে চরম উত্তেজনা। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের প্রেক্ষাপটে ইরান ফুটবল ফেডারেশন তাদের গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরিয়ে মেক্সিকোতে আয়োজনের জন্য ফিফার কাছে প্রস্তাব দিয়েছে।
গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক বিতর্কিত পোস্টে জানান, ইরানি ফুটবলারদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে আসা তাদের ‘নিজেদের জীবন ও নিরাপত্তার স্বার্থে’ ঠিক হবে না। যদিও তিনি খেলোয়াড়দের আসার পথ বন্ধ করার কথা সরাসরি বলেননি, তবে তাঁর এই মন্তব্যকে ‘প্রচ্ছন্ন হুমকি’ হিসেবে দেখছে তেহরান। এর প্রতিক্রিয়া হিসেবে মেক্সিকোতে নিযুক্ত ইরান দূতাবাস জানিয়েছে, যেখানে আয়োজক দেশ নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছে, সেখানে খেলতে যাওয়া অসম্ভব।
ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহদি তাজ জানিয়েছেন, তারা ইতিমধ্যে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন। ইরানের দাবি, সূচি অনুযায়ী তাদের যে তিনটি ম্যাচ লস অ্যাঞ্জেলেস এবং সিয়াটলে হওয়ার কথা ছিল, সেগুলো যেন মেক্সিকোতে সরিয়ে নেওয়া হয়। মেহদি তাজ বলেন, “ট্রাম্প যখন নিজেই স্বীকার করছেন যে তিনি আমাদের জাতীয় দলের নিরাপত্তা দিতে পারছেন না, তখন ফিফার উচিত বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা।”
এই উত্তেজনার মূলে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ এবং ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সামরিক সংঘাত। গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুতে দুই দেশের সম্পর্ক এখন চরম বৈরী। এমতাবস্থায় ইরানের ক্রীড়ামন্ত্রী আহমদ দুনিয়ামালি গত বুধবারই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ইরানের পক্ষে সম্ভব নয়।
আগামী ১১ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া এই আসরে ইরানকে রাখা হয়েছে গ্রুপ ‘জি’-তে, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ বেলজিয়াম, নিউজিল্যান্ড ও মিশর। পূর্ব সূচি অনুযায়ী তাদের ৩টি ম্যাচই যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।
বর্তমানে পুরো ফুটবল বিশ্ব ফিফার সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে। ফিফা যদি ভেন্যু পরিবর্তনের প্রস্তাবে রাজি না হয়, তবে ১৯৫০ সালের পর এবারই প্রথম কোনো দেশ যোগ্যতা অর্জন করার পরও বিশ্বকাপ থেকে নাম প্রত্যাহার করে নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

















