মার্কিন যুদ্ধজাহাজের বাধায় ইরান ছাড়তে পারেনি দুটি ট্যাংকার

ইরান ছাড়ার চেষ্টা করা দুটি তেলবাহী ট্যাংকারকে জোরপূর্বক থামানোর পর যুক্তরাষ্ট্রের এক যুদ্ধজাহাজ তাদেরকে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বলে দাবি করেছেন এক মার্কিন কর্মকর্তা।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত অবরোধ কার্যকর হওয়ার একদিন পর মঙ্গলবার এ ঘটনা ঘটে।
নৌযান দুটি ওমান উপসাগরে অবস্থিত চাবাহার বন্দর থেকে রওনা দিয়েছিল, মার্কিন যুদ্ধজাহাজ তাদের সঙ্গে বেতার বার্তার মাধ্যমে যোগাযোগ করে বলে জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা।
ট্যাংকার দুটিকে আর কোনো সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল কিনা তা জানা যায়নি, বলছে প্রতিবেদনে বলেছে রয়টার্স।
ট্রাম্পের অবরোধের লক্ষ্য হচ্ছে- ইরান যেভাবে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে রেখেছে তার অবসান ঘটানো। সঙ্কীর্ণ এ প্রণালিটি দিয়েই বিশ্বের তেল-গ্যাসের এক পঞ্চমাংশ পরিবহন করা হয়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আশা করছেন, তার অবরোধের চাপে ইরান বাধ্য হয়ে হরমুজ পুরোপুরি খুলে দেওয়াসহ যুক্তরাষ্ট্রের শর্তেই যুদ্ধ বন্ধে রাজি হবে। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালিয়ে যে যুদ্ধের সূচনা করেছিল যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল। সাড়ে ৫ সপ্তাহে কয়েক হাজার লোকের প্রাণহানির পর যুদ্ধ দুই সপ্তাহের এক ভঙ্গুর বিরতিতে রয়েছে। এ যুদ্ধবিরতি আগামী সপ্তাহে শেষ হওয়ার কথা।
তবে এই অবরোধ ট্রাম্পের আশা পূরণে কতখানি সহায়ক হবে, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞরা সন্দিহান। ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউট ফর নিয়ার ইস্ট পলিসিরি নোম রেইডেন বলছেন, অবরোধ শুরু হওয়ার পর কেবল একটি ট্যাংকার ইউ-টার্ন নিয়েছে বলে নৌচলাচল পর্যবেক্ষণকারী তথ্য বলছে। তবে ইরানি তেল সংশ্লিষ্ট বেশিরভাগ নৌযান সম্ভবত তাদের ট্র্যাকিং সঙ্কেত বন্ধ করে রেখেছে।
‘এই অবরোধ কতখানি কার্যকর হবে, আমরা এখনই তা বলতে পারছি না। মাত্র দ্বিতীয় দিন চলছে,’ বলেছেন রেইডেন।
মঙ্গলবার মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড এক বিবৃতিতে বলেছিল, ছয়টি বাণিজ্যিক জাহাজ তাদের নির্দেশ মেনে ঘুরে ওমান উসাগরের ইরানি বন্দরে ফিরে যায়। ওই ছয়টি জাহাজের মধ্যে এ দুটি ট্যাংকারও আছে বলে জানিয়েছেন ওই মার্কিন কর্মকর্তা।
সোমবার ওয়াশিংটন সময় সকাল ১০টায় কার্যকর হওয়ার পর থেকে কোনো নৌযানই এ অবরোধ ভাঙতে পারেনি, বলেছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে আল-জাজিরা জানায়, সোমবার থেকে এ পর্যন্ত মার্কিন নৌবাহিনী ৮টি নৌযানকে ইরানের বন্দরগুলোতে যেতে বা সেখান থেকে বের হতে দেয়নি।
প্রতিটি ক্ষেত্রেই মার্কিন বাহিনী নৌযানগুলোর ক্রু’দের সঙ্গে বেতার বার্তার মাধ্যমে যোগাযোগ করে এবং তাদেরকে ফিরে যেতে বলে, জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
তারা বলেন, সব ট্যাংকারই নির্দেশ মেনেছে, যে কারণে কোনে নৌযানে সেনা পাঠানো লাগেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের এ নৌ অবরোধে ১০ হাজারের বেশি সেনা, ডজনের বেশি যুদ্ধজাহাজ ও কয়েক ডজন যুদ্ধবিমান অংশ নিচ্ছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।
যেসব নৌযান ইরানে ঢুকবে না বা দেশটি থেকে বের হবে না, সেগুলো হরমুজ প্রণালি অবাধে পার হতে চাইলে তাদেরকে সহায়তা করা হবে বলেও জানিয়েছে তারা।

















