মামলা আতঙ্কে গ্রামছাড়া মানুষ, ডোমারে ২৫ বাড়িতে লুটপাট

নীলফামারীর ডোমার উপজেলায় খুনের মামলার আসামি হওয়ার আতঙ্কে পুরো একটি পাড়া পুরুষশূন্য হওয়ার সুযোগে ব্যাপক লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার ‘ময়দান পাড়া’ এলাকার অন্তত ২৫টি বাড়িতে সংঘবদ্ধ একটি চক্র লুটপাট ও ভাঙচুর চালিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘরবাড়ি ছেড়ে সপরিবারে পালিয়ে থাকা বাসিন্দাদের নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার, গরু-ছাগল এবং আসবাবপত্র লুট করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।
জানা গেছে, গত ১৪ মার্চ গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে ময়দান পাড়ায় এক সংঘর্ষে একজন নিহত হন। ওই ঘটনায় ২২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও অনেককে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলার পর গ্রেপ্তার এড়াতে এবং ‘অজ্ঞাত’ আসামি হওয়ার ভয়ে পাড়ার অধিকাংশ পুরুষ ও তাদের পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এলাকা জনশূন্য হওয়ার সুযোগে একটি সংঘবদ্ধ চক্র ফাঁকা বাড়িগুলোতে তাণ্ডব চালায়। ঘর থেকে শুরু করে গোয়ালঘর—সবকিছুই লুটে নিয়েছে তারা। আকলিমা বেগম নামে এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, তাঁর ভাইয়ের বাড়ি দেখতে গিয়ে তিনি দেখেন মালামাল লুট হচ্ছে। প্রতিবাদ করতে গেলে বাদীপক্ষ তাকেও মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। ভুক্তভোগীদের দাবি, লুটপাটে তাদের কয়েক কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।
এত বড় ঘটনার পরেও এলাকায় কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। তবে ডোমার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হাবিবুল্লাহ লুটপাটের অভিযোগ সরাসরি স্বীকার করেননি। তাঁর দাবি, এ বিষয়ে থানায় কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আসেনি। বাড়িঘরগুলোর অবস্থা সম্পর্কে তিনি এক বিচিত্র মন্তব্য করে বলেন, “বাড়িগুলো লুটপাট হয়নি, বরং সাম্প্রতিক ঝড়ে আসবাবপত্র ও মালামাল এলোমেলো হয়ে থাকতে পারে।” ঘটনার দায়ভার কার—এমন প্রশ্নে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
বর্তমানে ময়দান পাড়া এলাকাটি প্রায় জনশূন্য। একদিকে মামলার ভয়, অন্যদিকে সহায়-সম্বল হারানোর শোকে পরিবারগুলোর মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

















