বিপিএল বনাম বিশ্বক্রিকেট: কেন পিছিয়ে বাংলাদেশ?

যেখানে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) দর্শক ও রাজস্বের দিক থেকে ইউরোপের ফুটবল জায়ান্টদের সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছে, আর পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল) দিন দিন নিজেদের আর্থিক মানদণ্ড উঁচুতে তুলছে; সেখানে ১৪ বছর পেরিয়েও ধুঁকছে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল)। পেশাদারিত্বের সংকটে থাকা এই টুর্নামেন্টের সবশেষ আসরেও ক্রিকেটারদের পাওনা পরিশোধ না করার মতো ঘটনা বিপিএলের ভাবমূর্তিকে আবারও সংকটে ফেলেছে।
খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক বকেয়া রাখায় ঢাকা ক্যাপিটালসের ওপর চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছে বিসিবি। গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব ইফতেখার রহমান জানান, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ফ্র্যাঞ্চাইজিটিকে ১৫ দিনের সময় বেঁধে দেওয়া হলেও তারা কোনো ইতিবাচক পদক্ষেপ নেয়নি। এমনকি ঈদুল ফিতরের আগে বকেয়া মেটানোর আশ্বাস দিলেও বর্তমান হিসেব বলছে, এখনো খেলোয়াড়দের ৩ কোটি টাকারও বেশি পাওনা রয়ে গেছে।
ইফতেখার বলেন, “৬০ দিন পার হয়ে গেছে। ধৈর্যের একটা সীমা আছে। আজ (রোববার) এর মধ্যে টাকা পরিশোধ না করলে আমরা অন্য পথে হাঁটতে বাধ্য হব।”
আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও ক্রিকেটারদের আশ্বস্ত করেছে বিসিবি। ফ্র্যাঞ্চাইজিটি ব্যর্থ হলে বোর্ডের কাছে জমা থাকা নিরাপত্তা তহবিল থেকে অর্থ পরিশোধের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
ব্যাংক গ্যারান্টি: বিসিবির কাছে ঢাকা ক্যাপিটালসের ৫ কোটি টাকার ব্যাংক গ্যারান্টি রয়েছে।
অতিরিক্ত নিরাপত্তা: আরও ৫ কোটি টাকার একটি চেক বোর্ড আগে থেকেই সুরক্ষিত রেখেছে।
বোর্ড স্পষ্ট জানিয়েছে, ফ্র্যাঞ্চাইজিটি নিজে থেকে বকেয়া না মেটালে এই গ্যারান্টি ভাঙিয়ে ক্রিকেটারদের পাওনা বুঝিয়ে দেওয়া হবে।
ক্রমান্বয়ে জৌলুস হারানো বিপিএলের জন্য এই ঘটনা একটি বড় ধাক্কা। তবে বিসিবি কর্মকর্তারা মনে করছেন, বকেয়া আদায়ের ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থান নিলে ভবিষ্যতে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো আরও সতর্ক হবে। এখন দেখার বিষয়, বিসিবির এই আল্টিমেটামের পর ঢাকা ক্যাপিটালস তাদের দায় মেটায় কি না, নাকি বোর্ডকে আইনি ও আর্থিক ব্যাকআপ ব্যবস্থা কার্যকর করতে হয়।

















