বিপজ্জনক গরমের কবলে বিশ্বকাপ ফুটবলের ২৫ শতাংশ ম্যাচ

যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ শুরু হতে এক মাসও বাকি নেই। এমন মুহূর্তে ফুটবলার ও দর্শকদের জন্য নতুন শঙ্কার কথা জানালেন জলবায়ু গবেষকেরা।
তাদের সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, উত্তর আমেরিকাজুড়ে বাড়তে থাকা তাপমাত্রার কারণে আগামী বিশ্বকাপের প্রতি চারটি ম্যাচের একটি হতে পারে বিপজ্জনক গরমের মধ্যে। এমনকি ফাইনাল ম্যাচটিও ‘বাতিল পর্যায়ের’ চরম তাপঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য গার্ডিয়ান’-এর প্রতিবেদনে জলবায়ু বিজ্ঞানীদের এই চাঞ্চল্যকর গবেষণার তথ্যটি প্রকাশ করা হয়েছে।
গবেষণার মূল তথ্য ও শঙ্কা:
- প্রতি ৪ ম্যাচে ১টি বিপজ্জনক: গবেষকেরা জানিয়েছেন, টুর্নামেন্টের ১০৪টি ম্যাচের মধ্যে অন্তত ২৫ শতাংশ ম্যাচ এমন চরম তাপমাত্রার মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে, যা খেলোয়াড়দের স্বাস্থ্য ও পারফরম্যান্সের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
- ফাইনালও বাতিলের ঝুঁকিতে: আগামী ১৯ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। গবেষকদের মডেল অনুযায়ী, ওই সময়ে সেখানকার তাপমাত্রা এবং আর্দ্রতা এমন পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে যা ম্যাচ ‘বাতিল করার মতো’ বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করবে।
- সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভেন্যু: মেক্সিকোর মনটেরি, যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের হিউস্টন ও ডালাস এবং ফ্লোরিডার মায়ামি ভেন্যুকে সবচেয়ে বেশি তাপঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

খেলোয়াড়দের স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব:
জলবায়ু গবেষকদের মতে, চরম আর্দ্রতা ও অতিরিক্ত তাপমাত্রার (হিট ইনডেক্স) কারণে খেলোয়াড়দের শরীর স্বাভাবিকভাবে ঘাম ঝরিয়ে ঠাণ্ডা হতে পারবে না। এর ফলে খেলোয়াড়রা দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়া, পেশিতে টান ধরা, হিট এক্সহশচন (চরম ক্লান্তি) এবং মারাত্মক ক্ষেত্রে ‘হিট স্ট্রোক’-এর শিকার হতে পারেন। শুধু ফুটবলার নয়, গ্যালারিতে থাকা লাখো দর্শকের স্বাস্থ্যও এই চরম তাপপ্রবাহের কারণে ঝুঁকির মুখে পড়বে।
ফিফার ওপর চাপ ও সম্ভাব্য পদক্ষেপ:
ক্লিনিকাল জার্নাল অব স্পোর্ট মেডিসিন-এ প্রকাশিত এই গবেষণার পর বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্তা সংস্থা ফিফার (FIFA) ওপর ম্যাচ পরিচালনার নিয়ম পরিবর্তনের চাপ বাড়ছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় ফিফা নিচের পদক্ষেপগুলো নিতে পারে:
- কুলিং ব্রেক: ম্যাচের প্রতি অর্ধে খেলোয়াড়দের পানি পানের জন্য বাধ্যতামূলক ‘কুলিং ব্রেক’ বা অতিরিক্ত বিরতি দেওয়া।
- সময় পরিবর্তন: দুপুরের তীব্র গরম এড়াতে ম্যাচগুলো স্থানীয় সময় বিকেল বা সন্ধ্যার পর আয়োজন করা।
- ছাদ বন্ধ রাখা: যেসব স্টেডিয়ামে ছাদ বন্ধ করার (Retractable roof) এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা রয়েছে, সেখানে কৃত্রিম উপায়ে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা।
২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপ অতিরিক্ত গরমের কারণে জুন-জুলাইয়ের পরিবর্তে নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে আয়োজন করতে হয়েছিল। ২০২৬ বিশ্বকাপ নির্ধারিত সময়ে জুনেই শুরু হতে যাচ্ছে, তবে উত্তর আমেরিকার এই বৈরী আবহাওয়া টুর্নামেন্টের জৌলুস ও খেলোয়াড়দের সুরক্ষাকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করাল।







