বিচের বীরত্বে অস্ট্রেলিয়ার জয়, হতাশ তুরস্ক

বিসি প্লেস স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের ‘ডি’ গ্রুপের ম্যাচে তুরস্ককে ২-০ গোলে হারিয়ে স্মরণীয় এক জয় পেয়েছে অস্ট্রেলিয়া। ম্যাচজুড়ে বল দখল ও আক্রমণে তুরস্কের স্পষ্ট আধিপত্য থাকলেও অজি গোলরক্ষক প্যাট্রিক বিচের অবিশ্বাস্য বীরত্বে সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়। দীর্ঘ ২৪ বছর পর বিশ্বমঞ্চে ফেরার ম্যাচে আক্রমণাত্মক খেলেও চরম এক হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে আর্দা গুলেরদের তুরস্ককে।
কানাডার ভ্যাঙ্কুভারে ম্যাচ শুরুর বাঁশি বাজার পর থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবলের পসরা সাজায় তুরস্ক। তবে খেলার ধারার বিপরীতে ২৭তম মিনিটে দুর্দান্ত এক পাল্টা আক্রমণ থেকে গোল করে অস্ট্রেলিয়াকে এগিয়ে দেন ২০ বছর বয়সী তরুণ ফরোয়ার্ড নেস্তরি ইরানকুন্ডা। নিজের অভিষেক বিশ্বকাপ ম্যাচেই নিখুঁত ফিনিশিংয়ে গোল করার পর তিনি কিংবদন্তি টিম কাহিলের বক্সিং স্টাইলে উদযাপন করেন।
গোল হজমের পর তুরস্ক আরও মরিয়া হয়ে ওঠে। প্রথমার্ধের শেষ দিকে আব্দুলকেরিম বারদাকচির একটি জোরালো শট অজি গোলরক্ষক প্যাট্রিক বিচ নিজের আঙুলের ডগা দিয়ে পোস্টের গায়ে ঠেলে দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার লিড ধরে রাখেন।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই সমতায় ফিরতে সব শক্তি ঢেলে দেয় তুর্কিরা। ৫৫তম মিনিটে রিয়াল মাদ্রিদ তারকা আর্দা গুলেরের নেওয়া একটি চমৎকার ফ্রি-কিক ডানদিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে নসাৎ করে দেন তরুণ কিপার বিচ। পুরো ম্যাচে তুরস্ক মোট ২৬টিরও বেশি শট নিলেও বিচের অতিমানবীয় সব সেভের সামনে তা দেয়ালের মতো আটকে যায়।
তুরস্ক যখন অল-আউট আক্রমণে ব্যস্ত, ঠিক তখনই ৭৫তম মিনিটে খেলার ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয় সকারুসরা। প্রতিপক্ষের ডিফেন্সের ভুলের সুযোগ নিয়ে বক্সের বাইরে থেকে এক দূরপাল্লার জোরালো বাম পায়ের শটে বল জালে জড়ান মিডফিল্ডার কনর মেটকাফে। এই গোলের পর তুরস্কের ম্যাচে ফেরার সব আশা শেষ হয়ে যায়।
নির্ধারিত সময়ের খেলা শেষে ২-০ ব্যবধানের মহাকাব্যিক এক ক্লিনশিট জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে টনি পপোভিচের শিষ্যরা। এই জয়ের ফলে ৩ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের সুবিধাজনক অবস্থানে চলে গেল অস্ট্রেলিয়া। অন্যদিকে, প্রায় আড়াই দশক পর বৈশ্বিক মঞ্চে ফিরে এত গোছানো ফুটবল খেলার পরও গোলমুখে ফিনিশিংয়ের অভাব ও বিচের দেয়াল ভাঙতে না পারায় চরম হতাশায় নিমজ্জিত হতে হলো তুরস্ককে।

















