‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

বিএনপি সরকারের অন্যতম নির্বাচনি অঙ্গীকার ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার সকালে ঢাকার মহাখালীতে করাইল বস্তি এলাকা সংলগ্ন টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে প্রকল্পের উদ্বোধন করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানস্থলে এসে উপস্থিত সবাইকে শুভেচ্ছা জানান। সেখানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিনী জুবাইদা রহমানসহ মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, এমপি ও কূটনীতিকরাও উপস্থিত ছিলেন।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ‘নতুন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণের পাইলট প্রকল্পের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ১৭ জন নারী প্রধানের হাতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর সরকারপ্রধান ল্যাপটপে একটি বাটন প্রেস করেন, সঙ্গে সঙ্গে উপকারীভোগীদের মুঠোফোনে অর্থ চলে যায়। কার্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে রিনা বেগম ও রাশিদা আখতার নামের দুই নারী প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বক্তব্য দেন।

ঢাকা ছাড়াও সারাদেশের ১৪টি উপজেলায় শুরু হয়েছে ‘ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম। প্রাথমিকভাবে তিন লাখ ২০ হাজার পরিবারকে এই কার্ড দেয়া হবে।
প্রথম ধাপে আগামী জুন মাসের মধ্যে ৩৭ হাজার ৫৬৭টি নারীপ্রধান পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। প্রথম ধাপে ১০ হাজার পরিবার এই কার্ড পাবে। এপ্রিল মাসে ১০ হাজার, মে মাসে আরও ১০ হাজার এবং জুন মাসে বাকি ১০ হাজার পরিবার ফ্যামিলি কার্ড পাবে।
রাজধানীর কড়াইল বস্তি ছাড়াও সাততলা বস্তি, ভাসানটেক বস্তি, মিরপুর সার্কেল বা শাহ আলীর ওয়ার্ড-৮, আলিমিয়ার টেক বস্তি ওয়ার্ড-১৪ ও বাগানবাড়ি বস্তি এলাকায়ও ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হবে।

কড়াইলে অনুষ্ঠান শুরুর আগে মহিলা ও শিশু এবং কল্যাণমন্ত্রী এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেন, ‘নির্বাচনের সময়ে জনগণের কাছে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান অঙ্গীকার করেছিলেন যে, তার দল জনগণের ম্যান্ডেট পেলে ফ্যামিলি কার্ড চালু করবে। আজকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি সেই নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছেন। ফ্যামিলি কার্ড সার্বজনিন। তবে প্রাথমিকভাবে আমরা পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে ১৪টি উপজেলায় এই কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছি। এর আওতায় প্রতি পরিবার মাসে আড়াই হাজার টাকা করে পাবে।’
স্পর্শবিহীন জিপ, কিউআর কোড ও এনএফসি প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হচ্ছে আধুনিক এই কার্ড। পরিবারে থাকা মা অথবা নারী প্রধানের নামে এই কার্ড ইস্যু করবে সরকার। এই কার্ডে নাগরিকের সব ধরনের তথ্য থাকবে। ২০৩০ সালের মধ্যে এই কার্ডকে সর্বজনিন সোশ্যাল আইডি কার্ডে রূপান্তর করা হবে।
এদিকে, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী চট্টগ্রামের পটিয়া এবং বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন।
এছাড়া রাজবাড়ীর পাংশা, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর, বান্দরবানের লামা, খুলনার খালিশপুর, ভোলার চরফ্যাশন, কিশোরগঞ্জের ভৈরব, বগুড়া সদর, নাটোরের লালপুর, ঠাকুরগাঁও সদর এবং দিনাজপুরের নবাবগঞ্জেও বিতরণ করা হবে এই কার্ড।

















