প্রযুক্তিতে ফিরছে নস্টালজিয়া

বর্তমান বিশ্ব যখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) আর ফোল্ডেবল স্মার্টফোনের জোয়ারে ভাসছে, ঠিক তখনই একদল তরুণ ব্যবহারকারী ফিরে যাচ্ছে ২০-৩০ বছর আগের পুরনো প্রযুক্তিতে। ডিজিটাল ক্যামেরা থেকে শুরু করে এমপি৩ প্লেয়ার—দশকের পুরনো এসব ডিভাইসের চাহিদা এখন আকাশচুম্বী। প্রযুক্তিবিদরা একে কেবল নস্টালজিয়া নয়, বরং ‘ডিজিটাল ডিটক্স’ বা প্রযুক্তির ক্লান্তি থেকে মুক্তির পথ হিসেবে দেখছেন।
স্মার্টফোনের ক্যামেরা এখন এতটাই নিখুঁত যে, ছবিগুলো অনেক সময় কৃত্রিম মনে হয়। এই ‘অতিরিক্ত নিখুঁত’ ছবির বিপরীতে কিছুটা ঝাপসা ও বাস্তবধর্মী লুক পেতে তরুণ প্রজন্ম বা জেন জি এখন ঝুঁকছে পুরনো প্রযুক্তির ‘পয়েন্ট অ্যান্ড শুট’ ক্যামেরার দিকে। টিকটক ও ইনস্টাগ্রামে ‘অ্যাসথেটিক’ পোস্ট তৈরির জন্য সিসিডি সেন্সরযুক্ত পুরনো ক্যামেরার জনপ্রিয়তা এখন তুঙ্গে। ফলে ব্যবহৃত বা রিফারবিশড ক্যামেরার দাম বাজারে প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে।
অনলাইন স্ট্রিমিং সার্ভিসের কোটি কোটি গানের ভিড়েও আলাদা মিউজিক প্লেয়ার ব্যবহারের ঝোঁক বাড়ছে। ব্যবহারকারীদের মতে, স্মার্টফোনে গান শুনলে হাজারো নোটিফিকেশন একাগ্রতা নষ্ট করে। অন্যদিকে, সিডি থেকে কপি করা বা হাই-ফিডেলিটি ট্র্যাকের সাউন্ড কোয়ালিটি স্ট্রিমিংয়ের চেয়ে অনেক উন্নত। সনি বা ফিও-র মতো ব্র্যান্ডগুলো তাই এখনও প্রিমিয়াম মানের মিউজিক প্লেয়ার তৈরি করে যাচ্ছে, যার দাম কয়েক লাখ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
বই পড়া বা নোট নেওয়ার জন্য ট্যাবলেটের বদলে ই-ইংক ডিভাইসের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। কিনডল বা রিমারকেবল-এর মতো ডিভাইসগুলো চোখের জন্য আরামদায়ক এবং এতে অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ না থাকায় ব্যবহারকারীরা নোটিফিকেশনের যন্ত্রণা ছাড়াই কাজ করতে পারেন। অনেকটা সাদা-কালো কাগজের অভিজ্ঞতার জন্যই চড়া দাম দিয়েও মানুষ এসব ডিভাইস কিনছে।
পুরনো ভিডিও গেমের প্রতি ভালোবাসা নতুন করে বাড়ছে। ২০-৩০ বছর আগের নিনটেন্ডো বা সনি কনসোলের গেমগুলো খেলার জন্য ইমুলেশনভিত্তিক নতুন নতুন কনসোল বাজারে আসছে। গেমারদের দাবি, আধুনিক গেমের চেয়ে পুরনো গেমের সরল ডিজাইনের মধ্যে আনন্দ বেশি।
পুরনো প্রযুক্তিতে ফাইল ট্রান্সফার করা বা কন্টেন্ট জোগাড় করা বেশ ঝক্কির কাজ। আধুনিক চার্জিং পোর্টের অভাব বা পাইরেসি সাইটের ওপর নির্ভরতা থাকলেও, এক টুকরো শৈশব আর মানসিক প্রশান্তির খোঁজে মানুষ এই ঝক্কিটুকু মেনে নিতেও রাজি।
সব মিলিয়ে, প্রযুক্তির এই নস্টালজিক প্রত্যাবর্তন প্রমাণ করছে যে, মানুষ কেবল দ্রুতগতি নয়, বরং কাজের সময় কিছুটা নিভৃত অবসর আর নিজস্বতাকেও বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

















