পাকিস্তানে বন্দুকধারীদের গুলিতে লস্কর কমান্ডার নিহত

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে অজ্ঞাত বন্দুকধারীদের গুলিতে নিহত হয়েছেন নিষিদ্ধ ঘোষিত সন্ত্রাসী সংগঠন লস্কর-ই-তৈয়বার প্রভাবশালী কমান্ডার শেখ ইউসুফ আফ্রিদি। তিনি সংগঠনটির প্রধান ও মুম্বাই হামলার মূল পরিকল্পনাকারী হাফিজ সাঈদের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, খাইবার পাখতুনখাওয়া অঞ্চলে এক অতর্কিত হামলায় অজ্ঞাত বন্দুকধারীরা আফ্রিদিকে লক্ষ্য করে একাধিক গুলি চালায়। হামলাকারীরা এতটাই ক্ষিপ্র ছিল যে, আফ্রিদি পালানোর কোনো সুযোগ পাননি এবং ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত হয়। তদন্তকারীরা এই ঘটনাটিকে একটি ‘টার্গেট কিলিং’ বা লক্ষ্যভিত্তিক হত্যাকাণ্ড হিসেবে দেখছেন।
নিহত শেখ ইউসুফ আফ্রিদিকে লস্কর-ই-তৈয়বার কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগকারী হিসেবে বিবেচনা করা হতো। ওই অঞ্চলে সংগঠনের নেটওয়ার্ক বিস্তার ও কৌশল নির্ধারণে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন।
সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানে ভারত-বিরোধী হিসেবে পরিচিত বিভিন্ন সশস্ত্র সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের ওপর একের পর এক হামলার ঘটনা ঘটছে। গত মাসেই লাহোরে লস্কর-ই-তৈয়বার প্রতিষ্ঠাতা সদস্য আমির হামজার ওপর হামলা চালায় অজ্ঞাত বন্দুকধারীরা, তবে ৬৭ বছর বয়সি হামজা সেই যাত্রায় বেঁচে যান।
এর আগে, জইশ-ই-মোহাম্মদের প্রধান মাওলানা মাসুদ আজহারের বড় ভাই মুহাম্মদ তাহির আনোয়ার পাকিস্তানে রহস্যজনক পরিস্থিতিতে মারা যান। এছাড়া গত বছরের মার্চে হাফিজ সাঈদের আরেক ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও শীর্ষ সন্ত্রাসী আবু কাতাল ওরফে কাতাল সিন্ধিও জেলাম অঞ্চলে অজ্ঞাত বন্দুকধারীদের গুলিতে নিহত হন। এই আবু কাতাল ২০২৪ সালের জম্মু ও কাশ্মীরের রিয়াসি হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ধারাবাহিক এসব হত্যাকাণ্ডে পাকিস্তানের নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মধ্যে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

















