পরীক্ষায় সাইবারক্রাইম ঠেকাতে আগে থেকেই প্রস্তুতি ছিল: শিক্ষামন্ত্রী

সাইবার মাধ্যম ব্যবহার করে কেউ এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস প্রতিরোধে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রস্তুতি আছে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
এসএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনে বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানী সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘প্রশ্নফাঁস করবে যারা, তারা যে যন্ত্রটি ব্যবহার করে সেই যন্ত্রটিকে আবার কারেকশন করার লোকও রয়েছে। সাইবার ক্রাইম যেন আমার এই সেক্টরে না হয় এটা আমার অনেকদিন ধরে পূর্বপ্রস্তুতি আমার ছিল এবং সাইবার ক্রাইম স্পেশালিস্টদেরকে আমি যারা যারা সংশ্লিষ্ট রয়েছে এই প্রশ্নপত্র এবং ম্যানেজমেন্টের সাথে তাদের সকলের নাম্বার আমি সাইবার ক্রাইম অথরিটির কাছে দিয়ে রেখেছিলাম। ইফ এনিথিং হ্যাপেনস তারা ইমিডিয়েটলি লোকেট করতে পারবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সেটা কীভাবে ব্যবস্থা নেওয়া যায় সেই ব্যবস্থা সবকিছু কিন্তু বাংলাদেশে রয়েছে। ব্যবহার করছি না আমরা। এখানে কিন্তু সব সিস্টেম রয়েছে এবং সব ধরনের এই আর্টিকুলেট টেকনিক্যাল হ্যান্ড রয়েছে। তো এগুলো নিয়ে আমরা প্রিপারেশন রেখেছি।’
মন্ত্রী বলেন, ‘দেখা যাক তারা ট্রাই করুক। আমরাও ট্রাই করি। দেখা যাক, লেটস ফেইস দ্যা প্রবলেম। আই অ্যাম প্রিপেয়ারড।’
মঙ্গলবার শুরু হওয়া এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় বসেছেন সাড়ে ১৮ লাখ শিক্ষার্থী। সকাল ১০টায় নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, কারিগরি শিক্ষা বোর্ড ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৩ হাজার ৮৮৫টি কেন্দ্রে এ পরীক্ষা শুরু হয়।
পরীক্ষার প্রথম দিনে ঢাকা বোর্ডের অধীনে থাকা পাঁচটি ‘ঝুকিপূর্ণ‘ কেন্দ্র পরিদর্শন করেন শিক্ষামন্ত্রী। কেন্দ্রগুলো হল– মানিকগঞ্জের সিংগাইরের জয়মন্ডপ উচ্চ বিদ্যালয়, সরাইল উচ্চ বিদ্যালয়, সাভারের তেঁতুলঝড়া উচ্চ বিদ্যালয়, আমিনবাজারের মফিদি স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং মিরপুরের মডেল একাডেমি।
কেন্দ্র পরিদর্শন নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, ‘খুব সুন্দর পরিবেশ। স্কুল কর্তৃপক্ষ প্রশাসন এবং এলাকার জনগণ তারাও এই পরীক্ষায় সম্পৃক্ত হয়েছে। অভিভাবকদেরকে তারা প্রচণ্ড রোদের মধ্যে বাইরে তরমুজ পানি ও ঠাণ্ডা পানিও খাওয়ানোর ব্যবস্থা করেছেন এবং তারাও বেশ আনন্দিত আমি সেখানে গিয়েছি।’
এবারই প্রথমবারের মত এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার প্রতিটি কেন্দ্রের প্রতিটি কক্ষ সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ করতে কেন্দ্র সচিবদের নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘কন্ট্রোল রুমে গিয়ে আমি সিসি ক্যামেরাগুলো দেখেছি এবং দেখলাম প্রত্যেকটি কন্ট্রোল রুমে সিসি ক্যামেরা রয়েছে এবং হেড এক্সামিনার কেন্দ্র সচিব তার কক্ষে বসেই রুমগুলো পর্যবেক্ষণ করছেন। আমি নির্দেশ দিয়েছি যে সিসি ফুটেজ আর্কাইভে রেখে দিবেন। পরে কোনো কমপ্লেইন আসলে আমরা যেন ভেরিফাই করতে পারি।’
তিনি বলেন, ‘আমি খবর নিয়েছি টেলিফোনে সারা বাংলাদেশে। সকল বোর্ডের চেয়ারম্যানগণ বলেছেন, ‘পরীক্ষা সুন্দর হচ্ছে।‘ কোথাও কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। প্রশ্ন আউটের কোন সম্ভাবনা আদৌ নেই এবং হয়নি এবং এই ধরনের কোন আলোচনা নেই।’

















