নীলসাগরের লাইনচ্যুত নয় বগি উদ্ধার, ২২ ঘন্টা পর ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক

বগি লাইনচ্যুত হওয়ার ২২ ঘন্টা পর নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেন চালু হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে নীলফামারীর চিলাহাটিগামী ট্রেনটি সচল হয়েছে বলে সান্তাহার স্টেশন মাস্টার খাদিজা খানম জানিয়েছেন।
তিনি জানান, বুধবার রাত থেকে উদ্ধারকাজ শুরু হয়। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় মেরামত কাজ সম্পন্ন হয়। বেলা ১২টায় ওই রেলপথ দিয়ে খুলনাগামী সীমান্ত ট্রেন নির্বিঘ্নে সান্তাহার স্টেশনে পৌঁছায়। বুধবার ট্রেন দুর্ঘটনার পর যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। অনেকেই হুড়োহুড়ি করে নামার চেষ্টা করেন।
এর আগে বুধবার দুপুর আড়াইটার দিকে ঈদযাত্রী বহনকারী ট্রেনটির ৯টি বগি বগুড়ার আদমদীঘিতে লাইনচ্যুত হয়। স্থানীয়রা বলেন, দুর্ঘটনার সময় লাইনে মেরামতের কাজ চলছিল। লাল পতাকা টানানো হয়েছিল এবং সিগন্যালও দেওয়া হয়েছিল। তবে ট্রেন সিগন্যাল অমান্য করে লাইনে প্রবেশ করার কারণে দুর্ঘটনা ঘটে।
এ দুর্ঘটনায় কমপক্ষে ৫০ জন আহত হন। আহতদের নওগাঁ জেলা হাসপাতাল ও আদমদীঘি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। দুর্ঘটনার পর নীলফামারী, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় ও জয়পুরহাটের সাথে ঢাকার রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। এতে ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা।
এদিকে, বগুড়ায় নীলসাগর এক্সপ্রেস লাইনচ্যুতির ঘটনায় ঢাকায় ভোগান্তি বেড়েছে উত্তরের দুই ট্রেনের যাত্রীদের। বৃহস্পতিবার সকালে কমলাপুর স্টেশনে নীলফামারীর চিলাহাটিগামী ‘নীলসাগর এক্সপ্রেস’ ও দিনাজপুরগামী ‘একতা এক্সপ্রেসের’ ট্রেনের যাত্রীদের অপেক্ষা করতে দেখা গেছে।
কমলাপুর স্টেশনের সহকারী বাণিজ্যিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ আমিনুল হক জানান, ‘সান্তাহারে নীলসাগর এক্সপ্রেস দুর্ঘটনার কারণে দুটি ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় হয়েছে। তিনটি নতুন কোচ সংযুক্ত করে আজকের
নীলসাগর ছেড়েছে বেলা ১২টায়।’
দিনাজপুরগামী ‘একতা এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি বুধবার ঢাকায় আসতে না পারায় ট্রেনটি ছাড়তে বিকাল ৪টা বাজতে পারে বলে ধারণা দেন কমলাপুরের সাবেক এ স্টেশন ম্যানেজার।
আমিনুল হক বলেন, ‘বিকাল ৪টা ৫০-এ ছাড়বে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ওই সময়ে ছাড়বে বলে আশা করছি।’
এছাড়া সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত ১৫টি ট্রেন সঠিক সময়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের উদ্দেশে কমলাপুর ছেড়েছে বলে জানান আমিনুল হক।
ঈদযাত্রার শেষদিনে বৃহস্পতিবার দুটি স্পেশাল ট্রেনসহ মোট ৪৫টি আন্তঃনগর ট্রেন এবং ২১টি লোকাল ও মেইল ট্রেন ছাড়বে বলে জানিয়েছেন কমলাপুর স্টেশনের সহকারী বাণিজ্যিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ আমিনুল হক।
তিনি বলেন, ‘সকাল থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত ১৫টি ট্রেনের সবগুলোই সঠিক সময়ে কমলাপুর ছেড়েছে। সকল যাত্রীর টিকিট আছে কি না, সেটা নিশ্চিত করে প্লাটফর্মে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে। আজকে যাত্রীর চাপ একটু বেশি।’
স্টেশনের প্রবেশপথে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বাড়তি সতর্কতায় রয়েছে কর্তৃপক্ষ। কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের ঢোকার আগমুহূর্তে এবং প্ল্যাটফর্মে ঢোকার আগমুহূর্তে দুই স্তরে টিকেট যাচাই করা হচ্ছে। বিনা টিকিটে কাউকে স্টেশনে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না।

















