নিলামের পথে চট্টগ্রাম বন্দরে পড়ে থাকা ৪০০ গাড়ি

চট্টগ্রাম বন্দরে কয়েক মাস আগের গাড়ির জট পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক হয়ে এলেও নতুন সংকট তৈরি হয়েছে খালাস না হওয়া গাড়ি নিয়ে। বন্দরের তিনটি কারশেডে বর্তমানে ৮২০টি গাড়ি রয়েছে, যার মধ্যে ৪০০টি গাড়িই এখন নিলামের জন্য প্রস্তুত। দীর্ঘ সময় ধরে বন্দরে পড়ে থাকা এসব গাড়ি নিয়ে কাস্টমস কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে চিঠি দিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামীম জানান, বর্তমানে ৪০৯ ইউনিট গাড়ি ৩০ দিনের কম সময় ধরে কারশেডে রয়েছে। তবে ৪১১ ইউনিট গাড়ি ৩০ দিনের বেশি সময় ধরে অবস্থান করছে, যা নিয়ে কাস্টমস কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এই ৮২০টি ইউনিটের মধ্যে অর্ধেক অর্থাৎ ৪০০টি গাড়িই এখন নিলামের তালিকায় রয়েছে।
চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে বিশেষায়িত চারটি জাহাজে ১ হাজার ৬৭১টি গাড়ি খালাস হয়েছে। বিপরীতে, ২০২৫ সালের পুরো বছরে ৩১টি জাহাজে ১৪ হাজার ১৬৪টি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের গাড়ি আমদানি হয়েছিল।
রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের আট মাসে ৮ হাজার ৭১২টি গাড়ির বিপরীতে ১ হাজার ৪৪৮ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে। শুধু জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে ডেলিভারি হওয়া ২ হাজার ৩৬৫টি গাড়ি থেকে ৩৫২ কোটি ৯৩ লাখ টাকা রাজস্ব পেয়েছে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজ। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১ হাজার ২০টি গাড়ি বেশি ডেলিভারি হয়েছে এবং রাজস্ব আদায় বেড়েছে ৯০ কোটি টাকা।
গাড়ি আমদানির সংখ্যা বাড়লেও ব্যবসায়ীরা বলছেন তারা কঠিন সময় পার করছেন। বারভিডার সাবেক সহ-সভাপতি হাবিবুর রহমান জানান, নির্বাচন ও ঈদকে সামনে রেখে চাহিদা বাড়ার আশায় গাড়ি আমদানি করে এখন তারা ক্ষতির মুখে। তিনি বলেন, “বেচা-কেনা খুব খারাপ। মানুষের কাছে টাকা নেই। শোরুমের ভাড়াই দিতে পারছি না।”
একই সুর চট্টগ্রামের ম্যাক্সিম কার সেন্টারের পরিচালক রোকন উদ্দিনের কণ্ঠেও। তিনি জানান, গাড়ি বিক্রি না হলেও বন্দরের অতিরিক্ত মাশুল বা ‘ওয়ারফেন’ এড়াতে তারা বাধ্য হয়ে দ্রুত গাড়ি খালাস করে শোরুম বা গোডাউনে রাখছেন।
বাংলাদেশে সিসি (CC) ভেদে গাড়ি আমদানিতে ৮০০ থেকে ৮৫০ শতাংশ শুল্ক ধার্য রয়েছে। চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজের সহকারী কমিশনার শরীফ মো. আল আমিন বলেন, আমদানির সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়া অর্থনীতির উন্নয়নের ইঙ্গিত বহন করে। তবে ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, সরকার বিশেষ অগ্রাধিকার দিলে এই খাতে বিক্রি বাড়বে।

















