তিন মেয়ের ভবিষ্যৎ গড়তে গিয়ে ওমানে প্রাণ হারালেন বাবা

পরিবারের অভাব দূর করা আর তিন কন্যাসন্তানের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে মরুভূমির দেশ ওমানে পাড়ি জমিয়েছিলেন চাঁদপুরের কচুয়ার সন্তান কাউসার হোসেন (৪০)। হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে উপার্জিত অর্থে সন্তানদের মুখে হাসি ফোটাতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা তাঁর সেই স্বপ্নকে ধূলিসাৎ করে দিয়েছে।
ওমানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছেন এই রেমিট্যান্স যোদ্ধা। এখন অর্থাভাবে বিদেশের মাটিতেই পড়ে আছে তাঁর মরদেহ, আর দেশে স্বজনদের আর্তনাদে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠছে।
নিহত কাউসার হোসেন চাঁদপুরের কচুয়া পৌরসভার নূর মিয়া সওদাগর বাড়ির আমির হোসেনের ছেলে। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন বছর আগে অনেক কষ্ট করে ঋণ নিয়ে জীবিকার তাগিদে ওমানে যান তিনি। সেখানে রুস্তাক শহরে নির্মাণশ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। গত ১৯ মার্চ কাজ শেষে রাস্তা পার হওয়ার সময় দ্রুতগামী একটি গাড়ির ধাক্কায় গুরুতর আহত হন কাউসার। স্থানীয় একটি হাসপাতালে কয়েক দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে গত ২৫ মার্চ শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
কাউসারের অকালমৃত্যুতে পরিবারটিতে এখন শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এক চিলতে টিনের ঘরে বসবাস করা পরিবারটির একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন তিনি। বাড়িতে এখন শুধুই কান্নার রোল।
কাউসারের স্ত্রী জান্নাত আক্তার বিলাপ করতে করতে বলেন, “আমার স্বামী শুধু আমাদের তিন মেয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে বিদেশে গিয়েছিলেন। এখন মেয়েদের নিয়ে আমি কোথায় গিয়ে দাঁড়াব? মেয়েরা শুধু বাবার মুখটা শেষবারের মতো একবার দেখতে চায়। যেকোনো মূল্যে আমরা লাশটা দেশে এনে দাফন করতে চাই।”
এদিকে নিহতের বাবা আমির হোসেন ও মা মাহফুজা বেগম জানান, ছেলেকে বিদেশে পাঠাতে নেওয়া ঋণের কিস্তি এখনো শেষ হয়নি। এর মধ্যেই এল ছেলের মৃত্যুর সংবাদ। এই চরম অভাবের সংসারে বিদেশের মাটি থেকে মরদেহ ফিরিয়ে আনার মতো বিপুল পরিমাণ অর্থ জোগাড় করা তাঁদের পক্ষে অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কাউসারের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং ওমানে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী। সেই সঙ্গে পিতৃহীন তিন কন্যাসন্তান ও এই অসহায় পরিবারটির পাশে দাঁড়াতে সমাজের বিত্তবান ও বিবেকবান মানুষদের এগিয়ে আসার আকুল আহ্বান জানানো হয়েছে।

















