ঢাবি শিক্ষার্থীর মাস্টার্সে ভর্তির দায়িত্ব নিলেন ছাত্রদল নেতা শাওন

আর্থিক অনটন যেন এক মেধাবী স্বপ্নের পথে দুর্ভেদ্য প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান (বোটানি) বিভাগের ২০২০-২১ সেশনের শিক্ষার্থী সুমাইয়ার (ছন্দনাম) জন্য। সুফিয়া কামাল হলের আবাসিক এই শিক্ষার্থী যখন মাস্টার্সে ভর্তি হবেন। তখন পড়ে গেলেন আর্থিক সংকটে। প্রয়োজনীয় অর্থের অভাবে নিজের শিক্ষাজীবন নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় ভুগছিলেন।
ঠিক তখনই আশার আলো হয়ে পাশে দাঁড়ালেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. নাছির উদ্দিন শাওন। ব্যক্তিগত উদ্যোগে সুমাইয়ার ভর্তির দায়িত্ব নিয়ে তিনি প্রমাণ করলেন আন্তরিক ইচ্ছা থাকলে প্রতিকূলতা জয় করা সম্ভব।
এই মানবিক উদ্যোগের বিষয়ে মো. নাছির উদ্দিন শাওন অত্যন্ত বিনয়ের সাথে নিজের দায়বদ্ধতার কথা তুলে ধরেন। তিনি বিশ্বাস করেন, একজন সাধারণ শিক্ষার্থীর সংকটে পাশে দাঁড়ানো কোনো বিশেষ কৃতিত্বের বিষয় নয়, বরং এটি একজন ছাত্রনেতার নৈতিক দায়িত্ব।
তিনি স্পষ্টভাবে জানান যে, আর্থিক সংকটের কারণে কোনো শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন ব্যাহত হওয়াটা অত্যন্ত দুঃখজনক। এটি তিনি মেনে নিতে পারেন না। তাঁর মতে, ছাত্র রাজনীতির মূল লক্ষ্যই হওয়া উচিত শিক্ষার্থীদের কল্যাণে নিবেদিত থাকা।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে এই ছাত্রনেতা আরও জানান, ব্যক্তিগত সহায়তার পাশাপাশি তিনি একটি স্থায়ী ও শিক্ষার্থীবান্ধব কাঠামো গড়ে তুলতে আগ্রহী। আগামীতে সামর্থ্য অনুযায়ী সরকারের সহযোগিতা নিয়ে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ বৃত্তি ও নানাবিধ সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।
মো. নাছির উদ্দিন শাওনের এই মানবিক উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফাহিম এই বিষয়ে তার অভিমত ব্যক্ত করে বলেন, “একজন ছাত্রনেতার প্রকৃত পরিচয় তার পদবীতে নয়, বরং সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিপদে তিনি কতটা সক্রিয় তার ওপর নির্ভর করে। সুমাইয়ার মাস্টার্সে ভর্তির দায়িত্ব নিয়ে শাওন ভাই যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তা আমাদের মতো সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্র রাজনীতি নিয়ে ইতিবাচক আশার সঞ্চার করে। আমরা চাই ছাত্র রাজনীতি এভাবেই ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে সাধারণ শিক্ষার্থীদের কল্যাণে নিবেদিত থাকুক।”
অন্যান্য শিক্ষার্থীরাও মনে করছেন, পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে একটি সুন্দর ও শিক্ষার্থীবান্ধব ক্যাম্পাস গড়ার এই প্রত্যয় সুমাইয়ার মতো অসংখ্য মেধাবী শিক্ষার্থীর আগামীর পথকে আরও মসৃণ করবে।

















