ট্রাম্পের সঙ্গে মমতার সাদৃশ্য নিয়ে তোলপাড়

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির কাছে শোচনীয় পরাজয়ের পর তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগ করতে অস্বীকৃতি জানানোকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আচরণের সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে। ‘ইন্ডিয়া টুডে’-র কলামিস্ট কমলেশ সিং এক নিবন্ধে মমতাকে ‘মমতা ডোনাল্ড ব্যানার্জি’ আখ্যা দিয়ে দুই নেতার পরাজয় পরবর্তী অবস্থানের হুবহু মিল তুলে ধরেছেন।
কমলেশ সিং লিখেছেন, ২০২০ সালের নভেম্বরে ডোনাল্ড ট্রাম্প পরাজয় মেনে না নিয়ে যে ‘ষড়যন্ত্রের জাল’ বুনেছিলেন, ২০২৬-এর মে মাসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঠিক তারই পুনরাবৃত্তি করছেন। ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২০৬টিতে জিতে বিজেপি প্রথমবার ক্ষমতায় এলেও মমতা দাবি করছেন, নির্বাচন ‘চুরি’ করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের সহায়তায় ১০০টিরও বেশি আসন জোর করে ছিনিয়ে নেওয়ার নজিরবিহীন অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
কলামিস্টের মতে, ট্রাম্প ও মমতা উভয়েই নিজেদের ‘জনগণের প্রকৃত কণ্ঠস্বর’ হিসেবে দাবি করেন। ট্রাম্প যেমন পরাজয় নিশ্চিত জেনেও নিজেকে বিজয়ী ঘোষণা করেছিলেন এবং ক্যাপিটল হিলে হামলার উসকানি দিয়েছিলেন, মমতার অবস্থানও ঠিক তেমন। মমতা সাফ জানিয়েছেন, “আমি হারিনি, পদত্যাগ করব না।” তার এই অনড় অবস্থান তৃণমূল কর্মীদের কাছে বার্তা দিচ্ছে যে, ‘রাজপথই হলো আসল আদালত’।
নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে, পরাজয় মেনে না নেওয়ার এই মানসিকতার ফলে পশ্চিমবঙ্গে ভোট-পরবর্তী ভয়াবহ সহিংসতা শুরু হয়েছে। কলকাতা, হাওড়া, বীরভূম ও মুর্শিদাবাদসহ বিভিন্ন জেলা থেকে খুন ও অগ্নিসংযোগের খবর আসছে। মধ্যমগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর সহযোগীকে হত্যার ঘটনাও এই উগ্র রাজনীতির অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, গণতন্ত্রে পরাজয় মেনে নেওয়াই সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা। ট্রাম্প যেমন ওয়াশিংটনে গণতন্ত্রের প্রতীক ক্যাপিটল হিলে আঘাত করেছিলেন, মমতাও তেমনি একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার উপসংহারকে অস্বীকার করে পশ্চিমবঙ্গকে অনিশ্চিত অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন বলে নিবন্ধে দাবি করা হয়েছে।

















