জোরপূর্বক কৃষি জমিতে ফেলা হচ্ছে নাবিল গ্রুপের পোল্ট্রি বর্জ্য!

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার গোগ্রাম ইউনিয়নের কমলাপুর গ্রামে তিন ফসলি কৃষি জমিতে রাতের আঁধারে বিষাক্ত পোল্ট্রি বর্জ্য ফেলে পরিবেশ বিপর্যয় ঘটানোর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় প্রভাবশালী চক্রের যোগসাজশে নাবিল গ্রুপ-এর বিভিন্ন খামার থেকে আসা এই বর্জ্য কোনো ধরনের প্রক্রিয়াজাতকরণ ছাড়াই সরাসরি মাঠে ফেলায় পুরো এলাকায় তীব্র দুর্গন্ধ ও রোগজীবাণু ছড়িয়ে পড়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, অসহায় কৃষক ও গ্রামবাসীরা এই জনস্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করলে প্রভাবশালীরা তাদের ওপর চড়াও হচ্ছে এবং বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রতিদিন রাত ১টা থেকে ৩টার মধ্যে ট্রাকযোগে বিপুল পরিমাণ মুরগির বিষ্ঠা ও বর্জ্য কমলাপুর গ্রামের ফসলি জমি ও বিল এলাকায় ফেলা হচ্ছে। বর্জ্যের তীব্র দুর্গন্ধে এলাকাবাসী ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ রেখেও স্বস্তি পাচ্ছেন না। বৃষ্টির পানিতে এই বর্জ্য মিশে স্থানীয় খাড়ির পানি এতটাই দূষিত হয়েছে যে, তা এখন কৃষিকাজে ব্যবহারের অনুপযুক্ত হয়ে পড়েছে। মাছি ও পোকামাকড়ের উপদ্রব এতই বেড়েছে যে, তা ধানসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষতি করছে এবং পাশের পুকুরগুলোতে মাছ চাষ অসম্ভব হয়ে পড়ছে।
শনিবার (৪ এপ্রিল) বিকেলে সংবাদকর্মীদের উপস্থিতিতেই বর্জ্য ফেলার সমন্বয়কারী হযরত আলী স্থানীয় প্রতিবাদী গ্রামবাসীদের ওপর চড়াও হন। এক পর্যায়ে তিনি উপস্থিত এক ভ্যান চালককে মোটরসাইকেলের হেলমেট দিয়ে আঘাত করার চেষ্টা করেন এবং উপস্থিত জনতাকে কঠোর ভাষায় শাসিয়ে দেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে পুরো দায় নাবিল গ্রুপ-এর ওপর চাপিয়ে দিলেও প্রতিবাদীদের কণ্ঠরোধ করতে তার আচরণ ছিল অত্যন্ত আক্রমণাত্মক।
এই অবৈধ বর্জ্য ফেলার বিষয়ে প্রশাসনের অনুমতি রয়েছে বলে নাবিল গ্রুপ-এর ঠিকাদার বাবলু সরকার দাবি করলেও গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুস সাদাত রত্ন সেই দাবিকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
তিনি জানান, ইতিপূর্বে এই অপরাধের জন্য জরিমানা করা হলেও চক্রটি রাতের আঁধারে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এবার তাদের ডেকে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গোদাগাড়ী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জানিয়েছেন, জনস্বাস্থ্যের ক্ষতি ও আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে প্রভাবশালী মহলের দাপটে চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন কমলাপুর গ্রামের প্রান্তিক কৃষক ও সাধারণ মানুষ। তারা এই বিষাক্ত সংকট থেকে মুক্তি পেতে প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

















