কুষ্টিয়ায় দরবার শরিফে পীরকে হত্যা, অনেক চেহারা স্পষ্ট হলেও আটক নেই

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগরে উগ্রবাদীদের হামলায় পীর আব্দুর রহমান শামীম নিহত হওয়ার ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও কোনো মামলা হয়নি। হত্যার ঘটনার ভিডিওতে হামলাকারী অনেকের চেহারা স্পষ্ট দেখা গেলেও এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করেনি পুলিশ।
রোববার দুপুর আড়াইটার দিকে ঘটনাস্থল থেকে কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) ফয়সাল মাহমুদ বলেন, ‘এখন আমরা একটি সুষ্ঠু প্রক্রিয়ায় তার দাফন সম্পন্ন করার চেষ্টা করছি। এরপরই আনুষ্ঠানিক আইনগত প্রক্রিয়া শুরু হবে। তবে ছায়া তদন্ত চলছে এবং বেশ কিছু তথ্য-প্রমাণ আমাদের হাতে এসেছে।’
শামীমকে কুপিয়ে হত্যার প্রত্যক্ষদর্শী বড় ভাই ফজলুর রহমান। তিনি জানিয়েছেন, ‘চোখের সামনে ভাইকে কোপাতে দেখেছি। তার পুরো শরীর কুপিয়ে জখম করা হয়। আমার ভাই অন্যায় করলে প্রচলিত আইনে তার বিচার করতো। কিন্তু এভাবে একজন মানুষকে মানুষ কখনো মারে না। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।’
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা জানান, প্রথমে ৭০-৮০ জনের একটি দল শামীমের দরবার শরিফে হামলা চালায়। তবে শামীমকে আঘাত করেন ৭-৮ জন। পরে দ্বিতীয় দফায় স্থানীয় মাদ্রাসার কয়েকশ শিক্ষার্থী এসে পুনরায় হামলা ও ভাঙচুর করে।

ঘটনার সময় দরবার শরিফে উপস্থিত শামীমের অনুসারীরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘ধর্ম অবমাননার অভিযোগে হামলা হলেও তাদের আরেক উদ্দেশ্য ছিল লুটপাট। যেসব দামি জিনিস নেওয়া সম্ভব, তা তারা নিয়ে গেছে। বাকিগুলো পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। শামীমের ব্যবহৃত সোনার মুকুট, বাঁশি ও পায়ের তোড়াও লাপাত্তা।’
এদিকে, শামীমের জানাজা রোববার বিকেল সাড়ে ৪টায় সম্পন্ন হয়েছে। এরপর স্থানীয় গোরস্থানে তাকে দাফন করার কথা। এ ঘটনায় তার ভক্ত-অনুসারীরা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারা দরবার প্রাঙ্গণেই তার দাফনের দাবি জানিয়েছেন।
সাইদুর রহমান নামে এক ভক্ত বলেন, ‘তাকে অমুসলিম ঘোষণা দিয়েই পিটিয়ে মেরেছে। এখন কেন গোরস্থানে নেওয়া হচ্ছে।’
এর আগে, রোববার সকালে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে শামীমের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। দুপুর ২টা পর্যন্ত তার মরদেহ হাসপাতালে রাখা ছিল।
ময়নাতদন্তের পর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক হোসেন ইমাম বলেন, ‘শামীমের মাথা, ঘাড় ও পিঠে বেশি আঘাত ছিল। পুরো শরীরেই জখম রয়েছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে।’
সকাল ১১টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন খুলনা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি শেখ জয়নুদ্দীন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘ধর্ম অবমাননা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এজন্য দেশে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ আছে। আইন হাতে তুলে না নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানালেই ব্যবস্থা নেওয়া যেত। একইসঙ্গে যে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, তা অশোভনীয়।’
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি সূত্র জানিয়েছে, পরিকল্পিত এই হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ডদের ইতোমধ্যেই শনাক্ত করা হয়েছে। উদ্দেশ্যে প্রণোদিতভাবে একটি নির্দিষ্ট এলাকার নির্দিষ্ট গণ্ডিতে অন্তত ৭টি ফেসবুক পেইজ ও অ্যাকাউন্ট দিয়ে ভিডিও ছড়িয়ে এই ঘটনায় উসকানি দেওয়া হয়েছে।

















